ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পরের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হয়েছেন। তার স্ট্যাটাসকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা আর সমালোচনা। তবে তিনি এ ধরনের স্ট্যাটাস দিতে পারেন কি না ? এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। সরকারি চাকুরী বিধি অমান্য করেছেন কি না ? না কি কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য এধরনের মন্তব্য করেছেন। আবার এটাকে কেউ কৌশল বলে মনে করছেন।জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় যোগদান করেন। ২৫ সালের ১২ অক্টোবর বদলী আদেশ হয় কিন্তু সেই বদলীর আদেশ স্থগিত করা হয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন খাইরুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিন জন সচিব ফোন করেছে ইলেকশনের দিন জামায়াতের পক্ষে। সরকারের পক্ষে বিএনপির শুভাকাঙ্খী কাউকে চোখেও পড়েনি। অথচ দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গেছে ভালো পদের জন্য! লজ্জা!!” হুবাহু তুলে ধরা হয়েছে।এমন পোষ্ট দেওয়ার পরে সেটা কপি করে পাল্টা পোষ্ট করেছেন অনেকে, প্রশ্ন রেখেছেন তিনি আসলে এধনের স্ট্যাটাস দিতে পারেন কি না ? এ বিষয়ে কথা হয় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি ও সাপ্তাহিক সংগ্রামী বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন যদি এধরনের পোষ্ট দিয়ে থাকেন তাহলে তার এটা অযোগ্যতার পরিচয় বহন করে। তিনি একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে এটা করতেই পারে না। সরকারি চাকুরী বিধি শৃঙ্খলা লংঘনের পর্যায়ে পরে। আজকের বালিয়াডাঙ্গী ডটকম ফেসবুক পেজে সেই স্ট্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার আহম্মেদ মুকুট মন্তব্য করেছেন, “ধিক্কার জানাই ওই সব সচিব কে। ভোট চোর জামায়াত পক্ষে কথা বলার জন্য। ধন্যবাদ জানাই ইউ এন ও দেশপ্রেমিক ভাইকে। অন্যায় এর সাথে কোন আপস করেননি”।কৃষিবিদ জাফরুল আলম রিপন মন্তব্য করেছেন, “ইউএনও সাহেবের মোবাইল চেক করা হউক এবং মোবাইলের ভয়েস রেকর্ড নেয়া হউক। নইলে ভাইরাল হওয়ার মেটিকুলাস ডিজাইন হিসেবে বিবেচিত হবে। এম এ রশীদ মন্তব্য করেছেন, “চাটাচাটি শুরু। রাশেদ মাহমুদ মন্তব্য করেছেন, “ইউএনও সাহেবের এই পোস্ট যেন আবার প্রমোশনের জন্য না হয়”।ফেসবুক স্ট্যাটাস বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো : খাইরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এটা ব্যক্তিগত প্রোফাইল, এটা ডিলেট করে দিয়েছি। সরকারি বিধির মধ্যে পরে কি না জানতে চাইলে বলেন, ব্যক্তিগত। এ ব্যাপারে জামায়াতের একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। যাদের সাথে যার সখ্যতা বেশী থাকে, সেই সখ্যতা থেকে বের হওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে পারে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন আমি পোষ্টটা দেখেছি। জেলা প্রশাসক স্যার থাকলে ওনি এটার ভালো উত্তর দিতে পারতেন। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা ইতিবাচক না। কেউ যদি আমাকে বলে তুমি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করো। তাহলে আমি যদি ধরে নেই আমাকে কারো পক্ষে কাজ করতে বলেছে, এমনতো হতে পারে। কোন অফিসার কখনো কারো পক্ষে কাজ করার জন্য বলে না।
অনলাইন জরিপ
সারাদেশ
রাজনীতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সংসদ সদস্য ও বিকেল ৪টায় মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান শুরু হবে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেওয়া তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় কারা ঠাঁই পাচ্ছেন কারা, তা কাল জানা যাবে। তবে দলে ও দলের বাইরে আলোচনায় আছেন অনেকেই। দলটির ঘোষণা অনুযায়ী চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এ তিন মানদণ্ড প্রাধান্য দিয়ে ২০ থেকে ২২ জনের ছোট আকারের কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। এ ছাড়াও দুই থেকে তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন বলে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। টেকনোক্র্যাট কোটায় অনির্বাচিত বিশেষজ্ঞ ও জোটসঙ্গীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।এ ছাড়াও সম্ভাব্য মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যাঁদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আমান উল্লাহ আমান, খন্দকার মোক্তাদির, অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, রেজা কিবরিয়া, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আসাদুল হাবিব দুলু, আফরোজা খানম রিতা, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক, মিজানুর রহমান মিনু, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জহির উদ্দিন স্বপন, আলী আসগর লবি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল, শরীফুল আলম, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, নজরুল ইসলাম আজাদ, জি কে গউছ, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জাকারিয়া তাহের সুমন, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, রফিকুল আলম মজনু, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, সাইদ আল নোমান, হাবিবুর রশিদ হাবিব, এস এম জিলানী, খন্দকার আবু আশফাক, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, দীপেন দেওয়ান, নুরুল ইসলাম নয়ন, এইচএম সাইফ আলী খানের নাম আলোচনায় রয়েছে।(টেকনোক্রাট ও জোটসঙ্গীদের সম্ভাবনা)টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, রুহুল কবির রিজভী, হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মাহদী আমিন, আমিনুল হক। এ ছাড়া জোটসঙ্গী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের নামও আলোচনায় রয়েছে।এ ছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ছাড়া তাঁকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে এমন আলোচনাও রয়েছে। এ ছাড়াও স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও রাষ্ট্রপতি হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে দু-একজন স্পিকার হওয়ার আলোচনায়ও রয়েছেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়া পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামিকুল ইসলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।কারাগার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে থাকা অবস্থায় সামিকুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।রাত ১২টার দিকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ভোরের দিকে মারা যান।গাইবান্ধা জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ সামিকুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, সামিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডাযাবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জনিত রোগে ভুগছিলেন। এর আগে তিনি রংপুর মেডিকেলে ভর্তিও ছিলেন।তিনি আরও জানান, সামিকুল ইসলাম অসুস্থ হওয়ার পরপরই নিয়ম অনুযায়ী তাকে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিৎিসকগণ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিলে তাকে পুলিশ স্কোয়াডের মাধ্যমে রংপুরে পাঠানো হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে অন্য দলের প্রতি সহযোগিতার অভিযোগে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ৩ বিএনপি নেতাকে দলের সব পদ-পদবিসহ আজীবনের জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহিন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. লাভলু হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বরিশাল-২ (উজিরপুর ও বানারীপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত “ধানের শীষ” মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম না চালানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রতি সহযোগিতার জন্য তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, মো. হারুন দফাদার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, মো. জামাল মোল্লা ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি, মো. সহিদ বেপারী ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. লাভলু হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, বহিষ্কারের কাগজ প্রত্যেক নেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।তবে বহিষ্কৃত ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন দফাদার জানান, এ-সংক্রান্ত কোনো কাগজ এখনো আমি হাতে পাইনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের শপথ পড়ানো হবে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। এদিন বিকালে মন্ত্রিসভার শপথও অনুষ্ঠিত হবে। দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেসসচিব সালেহ শিবলী।আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকেও একই তথ্য জানা যায়।মঙ্গলবার সকালের শপথ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আর বিকালের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে এদিন ভোট নেওয়া হয়। নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। জামায়াত জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। বাকি আটটি আসনে জয় পেয়েছে অন্যান্য প্রার্থীরা।শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচিত ২৯৭ জনের গেজেট প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ।দীর্ঘ দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বধীন জোট। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। ফলে বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বধীন জোট।
বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ সবার আগে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে বিএনপি সরকার আইনী পথে হাটবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির নির্বাচনোত্তর প্রেস ব্রিফিংয়ের প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমনটা জানান।এ সময় তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের স্বার্থ সবার প্রথমে আসবে। সেই অনুযায়ী ফরেন পলসি সাজাবে বিএনপি। শুধু ভারতের সাথে নয়, পাকিস্তান ও চীনের সাথে সম্পর্ক কেমন হবে এমন প্রশ্নও আসে। সেক্ষেত্রেও তিনি একই মত ব্যক্ত করেন। চীনের সাথে সিল্ক রোড নিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা দেখবো এটি আমাদের অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নির্বাচনের আগে তারেক রহমান বলেছিলেন এবারের নির্বাচন কঠিন হবে। নির্বাচন কেমন হলো এবং বিএনপি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে কী না এমন আরেকটি প্রশ্ন আসে। তারেক রহমান বলেন, জনগণকে কনভিন্স করাই ছিল আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আর এটি করে সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করাই ছিলো বিএনপির জন্য কঠিন কাজ।যুবসমাজের সাথে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, আমরা যেহেতু জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি। আমরা যুবকদের শুনবো আমাদের সবার সাথে কথা বল কাজ করতে হবে। তবে শুধু যুবসমাজ নয়। আমাদের সমাজে বয়স্ক, নারী, প্রতিবন্ধীসহ আরও অনেক মানুষ রয়েছে। আমরা আমাদের প্রত্যেকের সমস্যা সমাধানে কাজ করবো। সরকার গঠনের পর চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আসে প্রশ্ন। তিনি বলেন, অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা, সুশাসন নিশ্চিত করাই অনেক চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। ইশতেহারে গণতান্ত্রিক অর্থনীতির কথা উল্লেখ করেছে বিএনপি। সেভাবেই অর্থনীতিকে গড়ে তোলা হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।প্রেস সচিব বলেন, দ্রুতই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এটি কোনোভাবেই ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির পর হবে না।তিনি বলেন, শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।