কুষ্টিয়ায় আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা আদেশের ’নোটিশ বোর্ড’ উধাও! নিরাপত্তাহীনতায় বাদিনী

কুষ্টিয়ায় আদালতের আদেশকে অমান্য করে জমিদখল করে বহুতল বিল্ডিং বাড়ি নির্মানের চেষ্টার পর এবার আদালত কর্তৃক আদেশের ”নোটিশ বোর্ড” উধাও করেছে শহরের চরথানা পাড়া এলাকার হাসানুজ্জামান সুজনের লোকজন। এর আগেও সে আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপুর্বক বিল্ডিং বাড়ি নির্মানের চেষ্টা করেছে।
জানাগেছে,কুষ্টিয়া অতিরিক্ত সহকারী জজ আদালতের ১২১৯/২১নং এক দেওয়ানী মামলায় মাননীয় সিনিয়র সহকারী জজ রোকাইয়া বিনতে খালেক স্বাক্ষরীত এক আদেশে গত ৮-৫-২০২৫ইং তারিখে উক্ত জমির উপর সকল কার্যক্রম নিষেধ করেন। তার আদেশের বিষয়টি কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ এর এস আই হাফিজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

এ সময় মামলার বাদিনীর পক্ষ থেকে নির্মানাধীন ভবনে কোর্টের আদেশ টি দেওয়ালে টাঙ্গানো হয়। গত কয়েকদিন ধরে সেই নোটিশ টি হাসানুজ্জামান সুজনের নির্দেশে তার মাতা হাসিনা বেগম খুলে ফেলেন। খোলার সময় প্রত্যক্ষদর্শিরা বলেন- তাকে নিষেধ করা হলে ও মানেন নাই। এ সময় ১১ বছরের রোহান নামের এক শিশুর চিৎকারে হাসিনা বেগম পালিয়ে যায়। তার পর থেকেই নোটিশ বোর্ডটি পাওয়া যায় নাই।

এ ঘটনায় মামালার বাদিনী- সৌদিয়া সিমি শ্রাবনী বলেন- আমি টাকার বিনীময়ে জমি ক্রয় করেছি। এটা একটাক্রয় করা জমির বাটোয়ারা মামলা চলছে। তারা দেশের কোন আইন-ই মানেন না। বরং বিভিন্ন ভাবে আমাকে ও আমার পরিবারের উপর হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। যা আদালতের আদেশেও উল্লেখ রয়েছে। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে শান্তির স্বার্থে আরো একটি নোটিশ বোর্ড তৈরী করতে দিয়েছি। পুনরায় লাগানো হবে। বিবাদী পক্ষ যদি আইন না মানেন তবে আইন না মানার জন্য আবারো আদালতের দারস্থ হবো। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধারেখে জমি ফেরত পেতে চাই।

উল্লেখ্য যে, কুষ্টিয়া সদর থানা পাড়া এলাকার মৃত শেখ মোহাম্মাদ পিরু এর বড় কণ্যা সৌদিয়া সিমি শ্রাবনী পিতার নিকট থেকে ০৬লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয় সুত্রে মজমপুর মৌজার দাগ নং ৯৫৩, জেএল নং আরএস-২৩, খতিয়ান নং আরএস-৮৩৩, খারিজ নং ৮৩৩/৩ এর ০.০০১৫৫অংশ জমির দলিল মুলে মালিক হন। উক্ত জমিতে বিরোধ সৃষ্টি হলে-গত ৮মে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত সহকারী জজ আদালতের ১২১৯/২১নং এক দেওয়ানী মামলায় মাননীয় বিচারক মহাদয়ের উক্ত স্থানে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

অপরদিকে মামালার বাদিনী-বর্তমানে সৌদিয়া সিমি শ্রাবনী বলেন- বিবাদী হাসানুজ্জামান সুজন এর বিভিন্ন হুমকি ধামকি ও নানাভাবে অত্যাচারে ভয়ে কোরবানীর ঈদের নিজের বাড়িতে যেতে ভয় পাচ্ছেন। নোটিশ বোর্ড খুলে ফেলার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুুতি চলছে।

এ ব্যাপারে হাসানুজ্জামান সুজনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। এর আগে সে আইন না মেনে কৌশলে নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলে আমি এ ব্যাপারে মিডিয়াতে কথা বলতে চাইনা ।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া জজকোটের অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন জানান ৮মে ২০২৫ইং তারিখে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত সহকারী জজ আদালতের মাননীয় বিচারক মহাদয় উক্ত জমিতে সকল নির্মানাধীন কাজের কার্যক্রম নিষেধ করেছে।