ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধন সড়কের উপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে —- সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা

oplus_262144

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আপনারা জানেন যে রাস্তাঘাট দুর্নীতির একটা বড় ক্ষেত্র। এই দুর্নীতি কমালে এবং আমাদের প্রকৌশলীরা যদি দেখেন তাহলে এইটাকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ রাস্তা নির্মাণের ব্যয় কমানো সম্ভব। সড়কের উপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে হবে। অন্যান্য যেসব যাতায়াতের মাধ্যম রেল পথ, নদী পথ এবং বিমান এসবের ব্যবহার বাড়াতে হবে।
রবিবার সকালে গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া এলাকায় ১৮-কিলোমিটার ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনসহ প্রকল্পের দেশী বিদেশী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা শহরে এ ধরনের বাইপাস আমাদের করতে হবে। যাতে বড় শহরকে যানজট থেকে মুক্ত করতে পারি। সড়ক নির্মাণের ব্যয় কমাতে হবে এবং টেকনোলজি সেটা কমাতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে। যাতে বছর বছর রাস্তা খারাপ না হয়ে যায়। আমাদের এখানে চীনের ঠিকাদার কাজ করতেছে। আমাদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও রেলওয়ে তাদেরকে বলি, আর কতকাল বাইরে থেকে লোক এসে আমাদের সড়ক বানিয়ে দিয়ে যাবে। আর কতকাল বাইরে থেকে লোক এসে আমাদের রেলপথ বানিয়ে দিয়ে যাবে? এত হাজার হাজার কিলোমিটার রেল পথ হলো এখন তোমরা এটার ফিজিক্যাল স্টাডি করতে পারবা না। তাহলে আমাদের এত ইঞ্জিনিয়ার থেকে লাভ কি? এত প্রকৌশলী থেকে লাভ কি ?
উপদেষ্টা আরো বলেছেন, আমাদের অন্যান্য যে যাতায়াতের মাধ্যম আছে যেমন- নদীপথে যাতায়াত করা, রেলওয়ে যাতায়াত করা ও বিমানে যাতায়াত করা এগুলোকে আমরা অবহেলা করেছি। আমরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এখন উদ্যোগ নিয়েছি। মাল্টি লেভেল প্লেন আমরা করতেছি। এই প্লেনের মধ্যে আমরা সবকিছু একত্রে দেখব। সড়ক পথ রেল পথ ও নদী পথকে দেখব। সবগুলো আমরা একত্রে করববো। যেখানে যেটা উপযুক্ত সেখানে সেটার উপর জোর দিব। যেখানে নদীপথে মুভমেন্ট সহজ হবে সেখানে নদীপথের উপর জোর দেওয়া হবে। যেখানে রেলের জন্য সহজতর হবে সেখানে রেলের জন্য জোর দেওয়া হবে। শুধুমাত্র সড়কের উপর নির্ভরতা এটা আমাদের কমাতে হবে। প্রত্যেক দিনই জমি অধিগ্রহণ এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। এজন্য এখান থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নিজেরা একটা রাস্তা করে দেখান। নিজেরা একটা পাওয়ার প্লেন করে দেখান। নিজের একটা ট্রান্সমিশন লাইন করে দেখান। বিদেশীদের নির্ভরতা থেকে আমাদের মুক্ত হয়ে আসতে হবে। পরে উপদেষ্টা লাল ফিতা কেটে ১৮-কিলোমিটার ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন।

oplus_262144

নাম থাকায় ফলক উন্মোচন করলেন না উপদেষ্টা, ক্ষোভ প্রকাশ
এদিকে গাজীপুরে ঢাকা-বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের ১৮ কিলোমিটার সড়ক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে মঞ্চের বাম পাশে স্থাপিত ফলক উন্মোচন করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি লাল মকমলের কাপড়ে ঢাকা স্বেত পাথরে কালো কালি দিয়ে উদ্বোধক হিসেবে তার নিজের নাম লেখা দেখতে পান। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তিনি বলতে থাকেন এটি কি আমার বাপের টাকায় করা, তাহলে ফলকে কেন আমার নাম থাকবে। তিনি ফলক দ্রুত ফলক পরিবর্তন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।
পরে তিনি টুলপ্লাজায় গিয়ে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন এবং নির্ধারিত টোল দিয়ে তিনি সড়ক অতিক্রম করেন। তিনি আর ফলক উন্মোচন করেননি। এ ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যেই উপদেষ্টার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।