দোহারে তীব্র গরমে বেড়েছে সুস্বাদু তালের শাঁসের চাহিদা

একদিকে সুস্বাদু, অন্যদিকে তালের শাঁসে জলীয় অংশের পরিমাণ বেশি থাকায় তা মানব দেহের পানি শূন্যতা পূরনেও অনেকটাই ভূমিকা রাখে। ফলে এ তীব্র গরমে ঢাকার দোহার উপজেলার হাট-বাজারগুলোতেই বেশ কদর বেড়েছে তালের শাঁসের। ক্যালসিয়াম ভিটামিন এ, বি ও সি সহ নানা ধরণের পুষ্টির চাহিদাও মিটছে তালের শাঁসে। সেই সাথে মৌসুমি ফল হিসেবে তালের শাঁস অবদান রাখছে গ্রামীন অর্থনীতিতেও। বর্তমানে সারা দেশে প্রচন্ড তাপদাহ। আর এই প্রচন্ড তাপদাহে জনজীবন হয়ে ওঠেছে বিপর্যস্থ ও দুর্বিসহ। তাপদাহের প্রচন্ড এই গরমে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারের ন্যায় জয়পাড়া বাজারেও জমে উঠেছে মৌসুমি ফল হিসেবে পরিচিত তালের শাঁসের বেচা কেনা। তীব্র গরমে একটু স্বস্তি পেতে রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ রসালো এই ফলের স্বাদ নিচ্ছেন অনেকেই।

জয়পাড়া বাজারে প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ দোকান নিয়ে বসছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। চাহিদা বেশি থাকায় দামও বেশি বলে জানিয়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। প্রতিটি তাল ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। আর বিক্রেতারা ধারালো দা দিয়ে তা কেটে তালের শাঁস বের করে দিচ্ছেন তৃষ্ণার্ত ক্রেতাদের। অনেকেই রাস্তায় পাশে বসে ও দাঁড়িয়ে এ ফল খাচ্ছেন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার জয়পাড়া বাজারের কালেমা চত্বরে বসেছেন এক তাল শাঁস বিক্রেতা। তিনি বলেন, সুস্বাদু হওয়ায় শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবার কাছেই তালের শাঁস প্রিয়। আবার মৌসুমি ফল বলে শখের বশেই অনেকে এটি কিনে খায়। আমরা প্রতি ৩ পিছ তালের শাস বিক্রি করছি ৫০ টাকা দরে। এখন কেনা বেশি পড়ায় তালের দাম চড়া থাকায় আমাদের বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমরা দিনে ৪০ থেকে ৫০ কাধি তালের শাঁস বিক্রি করতে পারি।

তালের শাঁস কিনতে আসা ট্রাস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ডিএমডি শেখ মো. মোস্তফা দৈনিক আজকের দর্পণকে বলেন, তালের শাঁস আমার খুবই পছন্দের একটি ফল। আমি এই মৌসুমটির অপেক্ষায় থাকি, কখন তাল শাঁস বাজারে পাওয়া যাবে।

তাল শাঁস ক্রেতা রাজীব বলেন, আমি মাঝে মাঝে তাল শাঁস কিনে খাই। নরম শাঁস খেতে অনেক ভালো লাগে। পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য সকল সদস্যের জন্যও কিনে নিয়ে যাই। তালের শাঁস অত্যন্ত সুস্বাদু ও পানি জাতীয় হওয়ায় গরমে এ ফল ছোট-বড় সকলেই পছন্দ করে থাকেন।