ভাঙ্গুড়ায় ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: সালিশে ‘চড়-থাপ্পড়’ মেরে মীমাংসা!

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দুধ বাড়িয়া গ্রামে ৫ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম আব্দুল বারেক মৃধা (৫০)। তিনি দুধ বাড়িয়া গ্রামের মৃত আলী আকবর মৃধার ছেলে এবং ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

ঘটনাটি ঘটে গত ১১ জুলাই। শিশুটির মা জানান, সেদিন সকালে তিনি তার মাকে এগিয়ে দিতে বাইরে যান। ফিরে এসে দেখতে পান, মেয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে আ.বারেকের বাড়ি থেকে আসছে। জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি জানায়, “বিশা খারাপ কাজ করেছে।” এ কথা শোনার পর বিষয়টি জানানো হয় গ্রামের মুরুব্বিদের।

পরদিন রাতে সালিশ বসে অভিযুক্তের বাড়িতে। সালিশে মাতবরেরা অভিযুক্ত আ.বারেককে চড়-থাপ্পড় মেরে বিচার শেষ ঘোষণা করেন। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, তারা মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মামলা করেনি। তাদের বলা হয়েছিল, আগে চিকিৎসা করিয়ে তারপর মামলা করতে পারবেন।

বর্তমানে শিশুটি স্থানীয় এক ডাক্তার চেম্বারে চিকিৎসাধীন। ডাক্তার জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। যদিও এখন সে শারীরিকভাবে কিছুটা ভালো আছে, তবে মানসিকভাবে দুর্বল।

সালিশে উপস্থিত থাকা সমাজ প্রধান আ.আজীজ, লতিফ, রওশন মৃধা ও মতিউর রহমান জানান, তারা পরিবারকে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছিলেন, কিন্তু তারা যায়নি। তবে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির পরিবারকে মামলা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ধর্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধের বিচার কোনো অবস্থাতেই সালিশ বৈঠকে করা যায় না। দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সচেতন মহল