মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা নিহিত রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে

মানবজীবনের প্রকৃত সফলতা নিহিত রয়েছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর মাধ্যম হলো নেক আমল। তবে তা হতে হবে বিশুদ্ধ নিয়তের সঙ্গে এবং শরিয়তের নির্ধারিত পথে। মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তারই ইবাদতের জন্য, জীবনকে সাজাতে বলেছেন ন্যায়ের পথে। নেক আমল সেই সেতুবন্ধ, যার মাধ্যমে বান্দা দুনিয়ার জটিলতা পেরিয়ে আখেরাতের অনন্ত শান্তির দিকে যাত্রা করতে পারে। এটি শুধু আখেরাতের পুঁজি নয়, বরং দুনিয়াতেও তা মানুষকে দেয় আত্মিক প্রশান্তি, চারিত্রিক পরিশুদ্ধতা এবং তা সমাজে আনে ইতিবাচক পরিবর্তন। কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত সেটার তুলনায় অবশ্যই আমি তাদের উত্তম প্রতিদান দেব।’ (সুরা নাহল ৯৭).


রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে অসংখ্য নেক আমলের কথা উল্লেখ রয়েছে, যেগুলো মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য দান করে, গুনাহ মোচন করে এবং জান্নাতের পথ সুগম করে। ইমান আনা, নামাজ আদায়, হজ পালন, দান-সদকা করা, মা-বাবার সেবা, মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার এবং সর্বোপরি সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করার মতো আমলগুলোকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় সর্বোত্তম কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এসব আমল শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের সীমায় আবদ্ধ নয়, বরং এগুলো মানুষের জীবনযাপনকে করে তুলে নৈতিক, সহনশীল ও কল্যাণমুখী। হাদিসে বর্ণিত কিছু আমল তুলে ধরা হলো।

দীর্ঘ নামাজ আদায় করা : আবদুল্লাহ ইবনে হুবশি আল-খাসআমি (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা রাসুল (সা.)-কে সর্বোত্তম কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন সদকা উত্তম? তিনি বলেন, ‘নিজ শ্রমে উপার্জিত সামান্য সম্পদ থেকে যে দান করা হয় সেটাই উত্তম।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হিজরত উত্তম? তিনি বলেন, ‘আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু থেকে দূরে থাকা।’ (আবু দাউদ)

মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন আমল সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন, ‘যথাসময়ে নামাজ আদায় করা, মা-বাবার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা, অতঃপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ (সহিহ বুখারি)

হজ আদায় করা : আবদুল্লাহ ইবনে হুবশি খাসআমি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বলেন, ‘সংশয়মুক্ত ইমান, খেয়ানতবিহীন জিহাদ এবং পাপমুক্ত হজ।’
(সুনানে নাসায়ি)

কোরবানি করা : আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন কাজ সর্বোত্তম? তিনি বলেন, ‘উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়া পাঠ করা এবং কোরবানির দিন কোরবানি করা।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)

জিকির করা : আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) বলেন, একবার এক বেদুইন রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, সর্বোত্তম ব্যক্তি কে? তিনি (সা.) বলেন, ‘সৌভাগ্যবান ওই ব্যক্তি, যে দীর্ঘ হায়াত পেয়েছে এবং যার আমল নেক হয়েছে।’ সে ব্যক্তি আবার জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি (সা.) বলেন, ‘তুমি যখন দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবে তখন তোমার মুখ আল্লাহর জিকিররত থাকবে।’ (মুসনাদে আহমদ)