মার্ক টোয়েন যখন ছিলেন তোমার মতো ছোট

বই লিখে যে সব লেখক গরিব অবস্থা থেকে অঢেল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন, মার্ক টোয়েন তাদের মাঝে অগ্রগণ্য। তার বিখ্যাত কিছু উপন্যাস, হাস্যরসাত্মক ছোট গল্প ও চমৎকার বর্ণনাত্বক আত্মজীবনীর জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
ছোটবেলায় মার্ক টোয়েন খুব পেন পেনে স্বভাবের ছিলেন। কৌতুক বলে বলে চারপাশের লোকজনকে জ্বালিয়ে মারতেন। স্কুলে যাওয়া ছিল তার চরম অপছন্দের। অনেকটা তোমাদের মত। স্কুল ফাকি দিয়ে প্রায়ই তিনি সমুদ্রের তীরে গিয়ে ছোট ছোট দ্বীপ, পাল তোলা নৌকা, সমুদ্রের ঢেউ ইত্যাদি দেখতেন।
মার্ক টোয়েনের বয়স যখন মাত্র বারো বছর, তখন তার বাবা মারা যায়। বাবার মৃত্যুর পর দারিদ্রতায় পড়ে মা তাকে একটি বই ছাপানোর কারখানায় কাজে ঢুকিয়ে দেয়। সেখানে তিনি বইয়ের বানান দেখতেন ও ছাপানোতে সহায়তা করতেন। বিনিময়ে পেতেন শুধু তিন বেলা খাবার। বইয়ের প্রুফ দেখার জন্য প্রচুর পড়তে হতো তাকে। তখনই নিজের ভেতর গল্প লেখার ভীত তৈরি হচ্ছিল তার। তুমি যদি প্রচুর পড়ো, তোমার মাঝেও লেখার ক্ষমতা তৈরি হবে। পরবর্তীতে তিনি হ্যানিবল জার্নাল নামে একটি সংবাদপত্রে চাকরি নেন। কাজ হলো লেখা কম্পোজ করা, মানে ছাপাযন্ত্রে টাইপ করা। তিনি একজন দক্ষ কম্পোজিটর ছিলেন। দিনে দশ হাজার শব্দ কম্পোজ করতে পারতেন। তুমি কম্পিউটারে এক মিনিটে কয়টি শব্দ কম্পোজ করতে পারো?
জীবিকার তাগিদে মার্ক টোয়েন কিছুদিন স্বর্ণের খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছিলেন। সে সময়ে সহকর্মী শ্রমিকদের মুখ থেকে গল্প শুনে সেসব লিখে রাখা শুরু করেন। এভাবে হাস্যরসে ভরা একটি চমৎকার গল্প লেখা হয়ে যায় তার; যা তাকে সারা বিশ্বে লেখক হিসেবে পরিচিত হতে সহায়তা করে। তোমরাও কিন্তু তোমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে শোনা গল্প লিখে সংবাদপত্রের ঠিকানায় পাঠিয়ে সংবাদপত্রে ছাপিয়ে সারাদেশে পরিচিত মুখে পরিণত হতে পারো।