শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ নার্সিং কলেজের অচলাবস্থা শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি অব্যাহত

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ নার্সিং কলেজের অচলাবস্থা রবিবার ১৯ দিনেও কাটে নি। এদিনেও শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে রেখে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন অব্যহত রেখেছে। তারা তিন শিক্ষককে অন্যত্র বদলী করাসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে। এসময় তারা ওই তিন শিক্ষকের কুশ পুত্তলিকা দাহ করেছে।

আন্দোলনরতরা জানায়, কলেজের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, পাঠদানের সুশৃংখল পরিবেশ বিনষ্ট করন এবং শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানী ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে কয়েক মাস ধরে ওই শিক্ষকদের অন্যত্র বদলী করার দাবী জানিয়ে আসছিল শিক্ষার্থীরা। দাবি মেনে না নেয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গত ১৩ আগস্ট হতে ক্লাশ বর্জন শুরু করে। ওইদিন দুপুরে তারা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে রেখে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন শুরু করে। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য প্রতিদিনই তারা একাডেমিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করে আসছে। রবিবার তারা ওই তিন শিক্ষকের কুশ পুত্তলিকা দাহ করে।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ নার্সিং কলেজের স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের (এসডব্লিউও) সভাপতি মেহেদী হাসান চয়ন জানান, কলেজের সুশৃংখল পরিবেশ বিনষ্ট করন, পাঠদানে অযোগ্যতা এবং শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানী ও হুমকি দেয়ার অভিযোগে বেশ কিছুদিন ধরে কলেজের তিন শিক্ষক নার্সিং ইন্সট্রাক্টর মোঃ জামাল উদ্দিন ভূইয়া, মোঃ তাজুল ইসলাম ও মোঃ মোখলেসুর রহমানকে অন্যত্র বদলী করার দাবি জানিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। এব্যাপারে মহাপরিচালক বরাবরে স্মারকলিপিও প্রদান করা হয়। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে প্রহসন মূলক রুটিন প্রকাশ করা হয়। কলেজের শিক্ষার্থীদের মেধাশুন্য করার লক্ষ্যে ওই রুটিনে পাঠদানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ৫ শিক্ষককে অন্তর্ভূক্ত করা হয় নি। এতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং ক্লাশ বর্জন করে আন্দোলনে নামে এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে রেখে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন শুরু করে। শিক্ষার্থীদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, এর আগেও ওই দাবীতে শিক্ষার্থীরা কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হতে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জন করে। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ওই তিন শিক্ষককে অদ্যাবধি অন্যত্র বদলী না করে স্বপদে বহাল রেখেছে।