শেরপুররে ৩ প্রতিষ্ঠানে খাদ্যে ভেজাল বিরোধী অভিযানে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন ইউএনও

জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে গত ২৮ জুন শুক্রবার শেরপুর উপজেলায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩-এর অধীনে এক কঠোর অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে তিনটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

এই গুরুত্বপূর্ণ অভিযানটি পরিচালনা করেন শেরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশিক খান, এবং প্রসিকিউটর হিসেবে তাঁকে সহযোগিতা করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জনাব মোঃ আব্দুল হান্নান। এই পদক্ষেপ খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের অঙ্গীকারকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলল।

মজুমদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, দুপুর ১২টার দিকে অভিযানের প্রথম প্রহর শুরু হয়। খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন ও বিপণনে অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত কর্মকারকে আইনের আওতায় আনা হয়। খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬ ও ৭ লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে নগদ ৫০,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এই জরিমানা খাদ্যদ্রব্য শিল্পের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।

দিনের দ্বিতীয় অভিযানে সততা এগ্রো ফুড লিঃ-কে ১ লক্ষ টাকার দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা, দুপুর ১টার দিকে দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় কেল্লাপোষী, শেরপুর, বগুড়ার সততা এগ্রো ফুড লিঃ-তে। নাম ‘সততা’ হলেও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সততার অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মোঃ আব্দুল মজিদ (৫৫)-কে খাদ্য আইনে গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। একই আইনের ধারা ৬ ও ৭ অনুযায়ী তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ) টাকা জরিমানা করা হয়। এটি প্রমাণ করে যে, খাদ্যদ্রব্যের মান নিয়ে কোনো আপস নয়।

তৃতীয় অভিযানে, সোনার মদিনা অটোরাইস মিলে ৫০ হাজার টাকায় দুপুর ১:৩০ মিনিটের দিকে আজকের অভিযান শেষ করেন কেল্লাপোষী এলাকায় বগুড়ার সোনার মদিনা অটোরাইস মিলে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোঃ আমিনুল ইসলাম (৪১)-কে খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহণ, সরবরাহ, বিতরণ, বিপণন (ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধ) আইন, ২০২৩-এর ধারা ৬ ও ৭ লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাঁকে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

শেরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ আশিক খান এবং উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জনাব মোঃ আব্দুল হান্নান উভয়েই জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।