সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ নদের বাঁশের সাঁকো ভেঙে পড়ায় বিছিন্ন তিন উপজেলার মানুষ 

সাতক্ষীরায় কপোতাক্ষ নদের ওপর দিয়ে চলাচলের একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় জন বিছিন্ন হয়ে পড়েছে সাতক্ষীরার  তালা,কলারোয়া ও যশোরের কেশবপুর উপজেলার মানুষেরা।কপোতাক্ষ নদের রচয়িতা মহাকবি মাইকেল মধু সুধন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি থেকে উল্লেখিত তিন উপজেলার মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম ছিল এই বাঁশের সাঁকোটি।
যোগাযোগ বিছিন্ন
কপোতাক্ষ নদের ওপর একমাত্র বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া  যশোরের কেশবপুর উপজেলার ২৫ গ্রামের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ।বাধ্য হয়ে প্রতিদিন দু’পারের শত শত মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে নদের উপর জমে থাকা শেওলার উপর দিয়ে পারাপার হচ্ছে।
একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকো 
জানা গেছে, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়িতে যাওয়ার জন্য কপোতাক্ষ নদের ওপর ব্রিজ বা সেতু না থাকায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কেশবপুর, তালা ও কলারোয়া উপজেলার হাজারও মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হয়ে ওঠে বাঁশের সাঁকোটি। যার উপর দিয়ে প্রতিদিন কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি,শেখপুরা, রেজাকাটি, বগা,মহাদেবপুর এবং তালা ও কলারোয়া উপজেলার সারসা, সরুলিয়া, সেনেরগাতি,ধানদিয়াসহ প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ চলাচল করে থাকেন।
কিন্তু সম্প্রতি ভারী বর্ষনে অনেকদিন ধরেই কপোতাক্ষ নদে কচুরিপানা জমে থাকায় সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। গত ১৬ জুলাই উজান থেকে নেমে আসা শেওলা-কচুরিপানার চাপে সাঁকোটি ভেঙে নদে বিলীন হয়ে যায়। অথচ এটি ছিল সাগরদাঁড়ি ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। এখন কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন জমাট বাঁধা শেওলার উপর দিয়ে, আবার কেউ নৌকা ভাড়া করে পার হচ্ছেন। সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি, শেখপুরা, রেজাকাটি, বগা, মহাদেবপুর ও তালা উপজেলার সারসা, সরুলিয়া, সেনেরগাতি, ধানদিয়াসহ  কলারোয়া উপজেলার প্রায় ২৫ গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষকসহ পথচারীদের চলাচলের জন্য বাঁশের সাকোটি ব্যবহার করতে হয়।এছাড়া, সপ্তাহের শনি, সোম ও বুধবার সাগরদাঁড়িতে হাট বসে।
সপ্তাহে তিন দিন হাট
সপ্তাহের শনি, সোম ও বুধবার সাগরদাঁড়িতে হাট বসে।এ হাটে ওপারের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল বেচাকেনা করে থাকেন। এ ছাড়া প্রতিদিন সাগরদাঁড়িতে পর্যটক আসেন। এ কারণেই বাঁশের সাঁকোটির গুরুত্ব অপরিসীম।
স্থানীয়দের মতামত
স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা আহমদ গাজী জানান, সম্প্রতি অবিরাম বর্ষণে কপোতাক্ষ নদেও স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। উজান থেকে নেমে আসা শ্যাওলা ও কচুরিপানার চাপে সাঁকোটি ভেঙে নদে বিলীন হয়ে যায়। এতে দুই পারের হাজারও মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সাগরদাঁড়ি বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজ্জাক আহমেদ রাজু বলেন, চলতি বছরের শুরুতে মধুকবির জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে তালা ও কেশবপুর দুই উপজেলার মানুষের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকোটি মেরামত করা হয়েছিল। উজানের বিপুল পরিমাণে শ্যাওলা আটকে সাঁকোটি আবারও ভেঙে পড়ে।
দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে দু’পারের মানুষ কপোতাক্ষ নদের ওপর বাঁসের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছে। কিন্তু’ সেটা ভেঙে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে দুপারের মানুষ। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, ওই স্থানে সেতু নির্মাণে ম্যাপসহ কারিগরি প্রতিবেদন তৈরি করে উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের মাধ্যমে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।কিন্তু সেতু নির্মাণে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
সারসা গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন,ব্রিজ বা সেতুটি না থাকায় আমাদের যাতায়াতের অনেক কষ্ট হচ্ছে। শেওলার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে অনেকেই পা পিছলে পড়ে যাচ্ছে।আবাক চুরিপনার পানির উপর দিয়ে হাটা চলার  কারণে অনেকের চুলকানি সহ চর্ম রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এখানে  দ্রুত একটা বাঁশের সাঁকো বা কাঠের ব্রিজ প্রয়জোন
ব্রিজটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়ে এলাকাবাসী জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া, রোগীসহ নানান কাজে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা এবং টেকসই ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা
স্থানীয় প্রসাশনের উদ্যোগ
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ নদের কাঠের সাঁকোটি শ্যাওলার চাপে ভেঙ্গে পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি সাঁকোটি নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।