দৃষ্টি প্রতিদিন
প্রকাশ : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যে কথা বলে ঠাকুরগাঁওয়ে ভাইরাল হলেন ইউএনও !

যে কথা বলে ঠাকুরগাঁওয়ে ভাইরাল হলেন ইউএনও !

 ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পরের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হয়েছেন। তার স্ট্যাটাসকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা আর সমালোচনা। তবে তিনি এ ধরনের স্ট্যাটাস দিতে পারেন কি না ? এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। সরকারি চাকুরী বিধি অমান্য করেছেন কি না ? না কি কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য এধরনের মন্তব্য করেছেন। আবার এটাকে কেউ কৌশল বলে মনে করছেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় যোগদান করেন। ২৫ সালের ১২ অক্টোবর বদলী আদেশ হয় কিন্তু সেই বদলীর আদেশ স্থগিত করা হয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন খাইরুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিন জন সচিব ফোন করেছে ইলেকশনের দিন জামায়াতের পক্ষে। সরকারের পক্ষে বিএনপির শুভাকাঙ্খী কাউকে চোখেও পড়েনি। অথচ দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গেছে ভালো পদের জন্য! লজ্জা!!” হুবাহু তুলে ধরা হয়েছে।

এমন পোষ্ট দেওয়ার পরে সেটা কপি করে পাল্টা পোষ্ট করেছেন অনেকে, প্রশ্ন রেখেছেন তিনি আসলে এধনের স্ট্যাটাস দিতে পারেন কি না ?  এ বিষয়ে কথা হয় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি ও সাপ্তাহিক সংগ্রামী বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন যদি এধরনের পোষ্ট দিয়ে থাকেন তাহলে তার এটা অযোগ্যতার পরিচয় বহন করে। তিনি একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে এটা করতেই পারে না। সরকারি চাকুরী বিধি শৃঙ্খলা লংঘনের পর্যায়ে পরে। 

আজকের বালিয়াডাঙ্গী ডটকম ফেসবুক পেজে সেই স্ট্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার আহম্মেদ মুকুট মন্তব্য করেছেন, “ধিক্কার জানাই ওই সব সচিব কে। ভোট চোর জামায়াত পক্ষে কথা বলার জন্য। ধন্যবাদ জানাই ইউ এন ও দেশপ্রেমিক ভাইকে। অন্যায় এর সাথে কোন আপস করেননি”।

কৃষিবিদ জাফরুল আলম রিপন মন্তব্য করেছেন, “ইউএনও সাহেবের মোবাইল চেক করা হউক এবং মোবাইলের ভয়েস রেকর্ড নেয়া হউক। নইলে ভাইরাল হওয়ার মেটিকুলাস ডিজাইন হিসেবে বিবেচিত হবে। এম এ রশীদ মন্তব্য করেছেন, “চাটাচাটি শুরু। রাশেদ মাহমুদ মন্তব্য করেছেন, “ইউএনও সাহেবের এই পোস্ট যেন আবার প্রমোশনের জন্য না হয়”।

ফেসবুক স্ট্যাটাস বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো : খাইরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এটা ব্যক্তিগত প্রোফাইল, এটা ডিলেট করে দিয়েছি। সরকারি বিধির মধ্যে পরে কি না জানতে চাইলে বলেন, ব্যক্তিগত।  

এ ব্যাপারে জামায়াতের একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করেও পাওয়া  যায়নি। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। যাদের সাথে যার সখ্যতা বেশী থাকে, সেই সখ্যতা থেকে বের হওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে পারে। 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন আমি পোষ্টটা দেখেছি। জেলা প্রশাসক স্যার থাকলে ওনি এটার ভালো উত্তর দিতে পারতেন। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা ইতিবাচক না। কেউ যদি আমাকে বলে তুমি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করো। তাহলে আমি যদি ধরে নেই আমাকে কারো পক্ষে কাজ করতে বলেছে, এমনতো হতে পারে। কোন অফিসার কখনো কারো পক্ষে কাজ করার জন্য বলে না।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৃষ্টি প্রতিদিন

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬


যে কথা বলে ঠাকুরগাঁওয়ে ভাইরাল হলেন ইউএনও !

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

 ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক পরের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ভাইরাল হয়েছেন। তার স্ট্যাটাসকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা আর সমালোচনা। তবে তিনি এ ধরনের স্ট্যাটাস দিতে পারেন কি না ? এমন প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। সরকারি চাকুরী বিধি অমান্য করেছেন কি না ? না কি কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য এধরনের মন্তব্য করেছেন। আবার এটাকে কেউ কৌশল বলে মনে করছেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় যোগদান করেন। ২৫ সালের ১২ অক্টোবর বদলী আদেশ হয় কিন্তু সেই বদলীর আদেশ স্থগিত করা হয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন খাইরুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দেন “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিন জন সচিব ফোন করেছে ইলেকশনের দিন জামায়াতের পক্ষে। সরকারের পক্ষে বিএনপির শুভাকাঙ্খী কাউকে চোখেও পড়েনি। অথচ দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে গেছে ভালো পদের জন্য! লজ্জা!!” হুবাহু তুলে ধরা হয়েছে।

এমন পোষ্ট দেওয়ার পরে সেটা কপি করে পাল্টা পোষ্ট করেছেন অনেকে, প্রশ্ন রেখেছেন তিনি আসলে এধনের স্ট্যাটাস দিতে পারেন কি না ?  এ বিষয়ে কথা হয় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি ও সাপ্তাহিক সংগ্রামী বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল লতিফ বলেন যদি এধরনের পোষ্ট দিয়ে থাকেন তাহলে তার এটা অযোগ্যতার পরিচয় বহন করে। তিনি একটা দায়িত্বশীল পদে থেকে এটা করতেই পারে না। সরকারি চাকুরী বিধি শৃঙ্খলা লংঘনের পর্যায়ে পরে। 

আজকের বালিয়াডাঙ্গী ডটকম ফেসবুক পেজে সেই স্ট্যাসের পরিপ্রেক্ষিতে শাহরিয়ার আহম্মেদ মুকুট মন্তব্য করেছেন, “ধিক্কার জানাই ওই সব সচিব কে। ভোট চোর জামায়াত পক্ষে কথা বলার জন্য। ধন্যবাদ জানাই ইউ এন ও দেশপ্রেমিক ভাইকে। অন্যায় এর সাথে কোন আপস করেননি”।

কৃষিবিদ জাফরুল আলম রিপন মন্তব্য করেছেন, “ইউএনও সাহেবের মোবাইল চেক করা হউক এবং মোবাইলের ভয়েস রেকর্ড নেয়া হউক। নইলে ভাইরাল হওয়ার মেটিকুলাস ডিজাইন হিসেবে বিবেচিত হবে। এম এ রশীদ মন্তব্য করেছেন, “চাটাচাটি শুরু। রাশেদ মাহমুদ মন্তব্য করেছেন, “ইউএনও সাহেবের এই পোস্ট যেন আবার প্রমোশনের জন্য না হয়”।

ফেসবুক স্ট্যাটাস বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো : খাইরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান এটা ব্যক্তিগত প্রোফাইল, এটা ডিলেট করে দিয়েছি। সরকারি বিধির মধ্যে পরে কি না জানতে চাইলে বলেন, ব্যক্তিগত।  

এ ব্যাপারে জামায়াতের একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করেও পাওয়া  যায়নি। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল হামিদ বলেন এ বিষয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। যাদের সাথে যার সখ্যতা বেশী থাকে, সেই সখ্যতা থেকে বের হওয়ার জন্য কৌশল অবলম্বন করতে পারে। 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন আমি পোষ্টটা দেখেছি। জেলা প্রশাসক স্যার থাকলে ওনি এটার ভালো উত্তর দিতে পারতেন। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা ইতিবাচক না। কেউ যদি আমাকে বলে তুমি নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করো। তাহলে আমি যদি ধরে নেই আমাকে কারো পক্ষে কাজ করতে বলেছে, এমনতো হতে পারে। কোন অফিসার কখনো কারো পক্ষে কাজ করার জন্য বলে না।



দৃষ্টি প্রতিদিন

প্রকাশক ও সম্পাদক এসএম আমিনুল মোমিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান


কপিরাইট © ২০২৬ দৃষ্টি প্রতিদিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত