দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই, রাজপথের আন্দোলন আর শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এখন ব্যালট যুদ্ধের অপেক্ষায় রয়েছেন বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার দুই লড়াকু নেতা। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তারা। ত্যাগী, নির্ভীক ও নির্যাতিত হিসেবে পরিচিত এই দুই মুখ হলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মামুনুর রশিদ আপেল ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও মাঠ না ছেড়ে দীর্ঘ সময় জেল-জুলুম সহ্য করা এই দুই নেতার প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন এখন তুঙ্গে।
শেরপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন শেরপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ আপেল। ইতিপূর্বে তিনি শেরপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা এই নেতাকে দফায় দফায় পুলিশি হয়রানি ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হতে হয়েছে। তবে জেল-জুলুম তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। ২ নং ওয়ার্ডের ভোটারদের দাবি, একজন নির্ভীক ও ত্যাগী নেতা হিসেবে আপেল এবার কাউন্সিলর পদে পরিবর্তনের মূল কারিগর হতে পারেন।
নিজের লক্ষ্য নিয়ে মামুনুর রশিদ আপেল বলেন, "রাজনীতি আমার কাছে ভোগের নয়, ত্যাগের। দীর্ঘ বছর ধরে দল ও জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছি। জেলে গিয়েছি, কিন্তু কখনও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ আমাকে তাদের ঘরের সন্তান মনে করেন। আমি কাউন্সিলর হয়ে নয়, তাদের সেবক হয়ে আজীবন পাশে থাকতে চাই।"
এদিকে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনার মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম। ১৯৯৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এই নেতা একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত। তিনি ইতিপূর্বে শেরপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বর্তমানে পৌর যুবদলের অন্যতম সদস্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্যবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। জেল-জুলুম ছিল তার জীবনের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিনের এই ত্যাগ ও সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার কারণে ৫ নং ওয়ার্ডে শহিদুলের অবস্থান এখন অত্যন্ত সুসংহত।
নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে শহিদুল ইসলাম বলেন, "১৯৯৮ সাল থেকে আজ অবধি দীর্ঘ এই কণ্টকাকীর্ণ পথচলায় আমি রাজপথ ছাড়িনি। রাজনীতির ময়দানে অসংখ্যবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, জেল-জুলুম আর পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। প্রতিটি দিন আমাকে মামলার ভয় আর হয়রানি সঙ্গী করে পার করতে হয়েছে। কিন্তু কোনো জুলুমই আমাকে আমার প্রিয় শহর ও ৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি ক্ষমতার লোভে নয়, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজনীতি করি। এই ওয়ার্ডের প্রতিটি ধূলিকণা আমার চেনা, প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথে আমার দীর্ঘদিনের মিতালি। আমি কাউন্সিলর হিসেবে বড় কোনো চেয়ারে বসতে চাই না; আমি চাই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি নাগরিকের বিপদের দিনে ছায়া হয়ে পাশে দাঁড়াতে। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই—আমৃত্যু আপনাদের সেবাতেই নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।"
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুই নেতার রাজনৈতিক পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। দফায় দফায় মামলা আর পুলিশি অভিযানে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হলেও তারা সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেননি। এলাকাবাসীর মতে, যারা প্রতিকূল সময়ে মানুষের পাশে থাকে, তারাই প্রকৃত প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য। আপেল ও শহিদুল উভয় নেতাই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তাদের সহজ-সরল জীবনযাপন ও রাজপথে অকুতোভয় ভূমিকার কারণে। ভোটারদের মতে, যারা দুঃসময়ে জেল খেটেছেন, পুলিশের লাঠিচার্জ সহ্য করেছেন এবং নিজের ঘরবাড়ি আক্রান্ত হতে দেখেছেন, তারাই সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট সবচেয়ে ভালো বুঝবেন।

রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬
দীর্ঘ রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই, রাজপথের আন্দোলন আর শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এখন ব্যালট যুদ্ধের অপেক্ষায় রয়েছেন বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার দুই লড়াকু নেতা। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তারা। ত্যাগী, নির্ভীক ও নির্যাতিত হিসেবে পরিচিত এই দুই মুখ হলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মামুনুর রশিদ আপেল ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শহিদুল ইসলাম।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মাঝেও মাঠ না ছেড়ে দীর্ঘ সময় জেল-জুলুম সহ্য করা এই দুই নেতার প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও সমর্থন এখন তুঙ্গে।
শেরপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন শেরপুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুনুর রশিদ আপেল। ইতিপূর্বে তিনি শেরপুর পৌর যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে রাজপথে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা এই নেতাকে দফায় দফায় পুলিশি হয়রানি ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হতে হয়েছে। তবে জেল-জুলুম তার মনোবল ভাঙতে পারেনি। ২ নং ওয়ার্ডের ভোটারদের দাবি, একজন নির্ভীক ও ত্যাগী নেতা হিসেবে আপেল এবার কাউন্সিলর পদে পরিবর্তনের মূল কারিগর হতে পারেন।
নিজের লক্ষ্য নিয়ে মামুনুর রশিদ আপেল বলেন, "রাজনীতি আমার কাছে ভোগের নয়, ত্যাগের। দীর্ঘ বছর ধরে দল ও জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছি। জেলে গিয়েছি, কিন্তু কখনও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। ২ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষ আমাকে তাদের ঘরের সন্তান মনে করেন। আমি কাউন্সিলর হয়ে নয়, তাদের সেবক হয়ে আজীবন পাশে থাকতে চাই।"
এদিকে, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আলোচনার মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন যুবদল নেতা শহিদুল ইসলাম। ১৯৯৮ সাল থেকে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত এই নেতা একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে পরিচিত। তিনি ইতিপূর্বে শেরপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বর্তমানে পৌর যুবদলের অন্যতম সদস্য। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্যবার হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। জেল-জুলুম ছিল তার জীবনের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এলাকাবাসীর মতে, দীর্ঘদিনের এই ত্যাগ ও সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার কারণে ৫ নং ওয়ার্ডে শহিদুলের অবস্থান এখন অত্যন্ত সুসংহত।
নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে শহিদুল ইসলাম বলেন, "১৯৯৮ সাল থেকে আজ অবধি দীর্ঘ এই কণ্টকাকীর্ণ পথচলায় আমি রাজপথ ছাড়িনি। রাজনীতির ময়দানে অসংখ্যবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, জেল-জুলুম আর পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি। প্রতিটি দিন আমাকে মামলার ভয় আর হয়রানি সঙ্গী করে পার করতে হয়েছে। কিন্তু কোনো জুলুমই আমাকে আমার প্রিয় শহর ও ৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।"
তিনি আরও বলেন, "আমি ক্ষমতার লোভে নয়, বরং মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজনীতি করি। এই ওয়ার্ডের প্রতিটি ধূলিকণা আমার চেনা, প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখের সাথে আমার দীর্ঘদিনের মিতালি। আমি কাউন্সিলর হিসেবে বড় কোনো চেয়ারে বসতে চাই না; আমি চাই ৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি নাগরিকের বিপদের দিনে ছায়া হয়ে পাশে দাঁড়াতে। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই—আমৃত্যু আপনাদের সেবাতেই নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।"
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই দুই নেতার রাজনৈতিক পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। দফায় দফায় মামলা আর পুলিশি অভিযানে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হলেও তারা সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেননি। এলাকাবাসীর মতে, যারা প্রতিকূল সময়ে মানুষের পাশে থাকে, তারাই প্রকৃত প্রতিনিধি হওয়ার যোগ্য। আপেল ও শহিদুল উভয় নেতাই সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তাদের সহজ-সরল জীবনযাপন ও রাজপথে অকুতোভয় ভূমিকার কারণে। ভোটারদের মতে, যারা দুঃসময়ে জেল খেটেছেন, পুলিশের লাঠিচার্জ সহ্য করেছেন এবং নিজের ঘরবাড়ি আক্রান্ত হতে দেখেছেন, তারাই সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট সবচেয়ে ভালো বুঝবেন।

আপনার মতামত লিখুন