শীত শেষ, তবু মেলেনি কম্বল শেরপুরে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বন্দ্বে গুদামেই পড়ে আছে সরকারি ত্রাণ
প্রকৃতিতে এখন খরতাপ, জেঁকে বসেছে গরম। অথচ হাড়কাঁপানো শীত চলে গেলেও বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কম্বল এখনো পুরোপুরি বিতরণ করা হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের (মেম্বার) মধ্যকার রেষারেষি আর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত রোববার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ইউপি সদস্য।লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শীতের শুরুতেই কম্বলগুলো প্রকৃত অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম একক সিদ্ধান্তে সামান্য কিছু কম্বল বিতরণ করে বাকিগুলো পরিষদের গুদামে আটকে রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কম্বল গোপনে সরিয়ে ফেলার পায়তারা করা হচ্ছিল।অভিযোগকারী ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "নিয়ম অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম সকল সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তা মানেননি। তিনি নিজের পছন্দের লোকজনকে কিছু কম্বল দিয়ে বাকিগুলো গুদামে ফেলে রেখেছেন। রোববার দুপুরে সেগুলো গোপনে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা স্থানীয়দের নিয়ে বাধা দিই।"অন্যদিকে, গুদামে কম্বল থাকার কথা স্বীকার করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম। তার দাবি "বেশিরভাগ কম্বল তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু ইউপি সদস্য সময়মতো তাদের এলাকার কম্বল সংগ্রহ না করায় সেগুলো গুদামে রয়ে গেছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি।"উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল জাব্বার এই বিলম্বের জন্য ইউপি সদস্যদের অনীহাকেই দায়ী করেছেন। তবে দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পিআইও-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কম্বলগুলো বিতরণ সম্পন্ন করা হয়।"তীব্র শীতের সময় যে কম্বলগুলো দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারত, রাজনৈতিক রেষারেষিতে সেগুলো এখন গুদামে ধুলো খাচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কি যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে?