দৃষ্টি প্রতিদিন

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বিশেষ সম্মাননা পেলেন শেরপুরের ডা. সাজিদ

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী (লিংকন)। উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অভাবনীয় সাফল্য ও 'হেলথ সিস্টেম স্ট্রেন্থেনিং' ক্যাটাগরিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সম্মানজনক ‘শ্রেষ্ঠ ইউএইচএফপিও’ খেতাবে ভূষিত করা হয়েছে।শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইউএইচএফপিও জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর হাতে এই বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।সম্মেলন সূত্রে জানা গেছে, ডা. সাজিদ হাসানের সুযোগ্য নেতৃত্বে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এক অভাবনীয় রূপান্তর প্রত্যক্ষ করেছে। তাঁর কার্যকর পদক্ষেপে ২০২৪ সালে দেশের ৪৯২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৯.৪৪ রেটিং পয়েন্ট অর্জন করে সারা দেশে প্রথম স্থান অধিকার করে এই হাসপাতালটি। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৫ সালেও হাসপাতালটি অন্তঃবিভাগ সেবা, জটিল অস্ত্রোপচার ও ল্যাবরেটরি সেবায় টানা পাঁচ মাস দেশসেরার মুকুট ধরে রাখে।হাসপাতালটির উন্নয়ন চিত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে ডা. সাজিদ হাসান দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আমূল পরিবর্তন শুরু হয়। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়:দীর্ঘ ৩৬ বছর বন্ধ থাকা অপারেশন থিয়েটার (OT) পুনরায় চালু করা হয়েছে।প্রায় ২২ বছর পর হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন।বগুড়া জেলার মধ্যে বর্তমানে নরমাল ডেলিভারি বা স্বাভাবিক প্রসব সেবায় এই হাসপাতালটি শীর্ষস্থান দখল করেছে।হাসপাতালের পরিবেশকে রোগী-বান্ধব করতে গড়ে তোলা হয়েছে নয়নাভিরাম ছাদবাগান ও মিনি ফুলবাগান।"এই সম্মাননা আমার একার নয়, এটি শেরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটি চিকিৎসক, নার্স ও মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য এখন সেবার এই মানকে টেকসই করা।" — ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী।অনুষ্ঠানে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডা. সাজিদ হাসানের কর্মতৎপরতাকে দেশের অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য একটি 'রোল মডেল' হিসেবে উল্লেখ করেন। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আন্তরিকতার সমন্বয়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে কীভাবে জনগণের দোরগোড়ায় জনপ্রিয় করে তোলা যায়, ডা. সাজিদ তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।উল্লেখ্য, ডা. সাজিদ হাসানের নেতৃত্বে এর আগে ২০২১ সালেও এই হাসপাতালটি সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের গৌরব লাভ করেছিল। তাঁর এই অর্জন বগুড়াবাসী তথা দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে বিশেষ সম্মাননা পেলেন শেরপুরের ডা. সাজিদ