ঢাকার ধামরাইয়ে অনলাইন জুয়ায় আসক্তি থেকে টাকা চেয়ে না পাওয়ার পর গহনা লুট করতে কুপিয়ে ও পাথর দিয়ে থেতলে হত্যা করা হয় নাহিদা আক্তার (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে। এ ঘটনায় শামীম ওরফে স্বপন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যায় জড়িতের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধামরাই থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।
গতকাল (শুক্রবার) ধামরাইয়ের লাকুড়িয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৩ এপ্রিল বিকেলের দিকে ধামরাই পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির নিচতলায় একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার শামীম ওরফে স্বপন সাভারের আশুলিয়ার রহিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ধামরাইয়ের লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
লাকুড়িয়াপাড়ায় তার নানীর দেলোয়ারা বেগম (দুলী)সঙ্গে থাকতেন। তিনি ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। পরিবার সুএ জনায় নিহতের মা লিজা আক্তার প্রবাসী ও বাবা নুর হোসেন বরিশালে থাকেন।
পুলিশ জানায়, ওই বাসায় নিহত ওই শিক্ষার্থী ও তার নানী থাকতেন। ঘটনার দিন বিকেলের দিকে তার নানী দুধ কিনতে বাইরে যান। তবে দুধ না পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাসায় ফিরে আসেন। এ সময় দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে ঢুকে নাহিদা আক্তারকে রক্তাক্ত জখম দেখতে পান। এ সময় তার মাথা, গলা ও বুকে কাটা জখম দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে ধামরাই ও সাভারের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর কানের প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের সোনার দুল, প্রায় ১ লাখ টাকা মূল্যের সোনার গলার চেইন, ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি হাতের আংটি লুটে নেয় বলে গেছে দেখা যায় বলে জানায় পরিবার। এ ঘটনায় ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেছ পরীক্ষা নীরিক্ষা ও পযবখেন করে খুনিকে সনাক্তর পর তার স্ত্রী সহায়তা তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি স্বীকারোক্তি দিয়ে জানান, বিকেলের দিকে পাশের কক্ষ থেকে এসে দরজায় কড়া নাড়ে ওই ব্যক্তি। পূর্বপরিচিত হওয়ায় সরল বিশ্বাসে ওই তরুণী দরজা খুলে দেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তার কাছে টাকা ধার চান। এতে অস্বীকৃতি জানালে মুহুর্তের মধ্যে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরে রান্না ঘরের মেঝেতে ফেলে দিয়ে ওই ব্যক্তির কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে তার গলা কাটে ও বুকে আঘাত রক্তাক্ত জখম করেন, এছাড়া মৃত্যু নিশ্চিতে শীলপাঠা পাথর দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করে থেতলে দিয়ে হত্যা নিশ্চত করা হয়। এরপর ওই শিক্ষার্থীর কাছ থাকা গহনা ছিনিয়ে নিয়ে তিনি পালিয়ে যায় ঐ খুনী।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, হত্যার পর আসামি ভুক্তভোগীর স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। ইতোমধ্যে নিহতের কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শীল পাটা-(পোতা)উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিবরণ অনুযায়ী, ধারালো চাকুটি ধামরাইয়ের শরীফবাগ এলাকায় নদীতে ফেলে দেন ঐ খুনী। এরইমধ্যে শরীফবাগ এলাকায় নদীতে ডুবুরি দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। তবে চাকুটি পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার ধামরাইয়ে অনলাইন জুয়ায় আসক্তি থেকে টাকা চেয়ে না পাওয়ার পর গহনা লুট করতে কুপিয়ে ও পাথর দিয়ে থেতলে হত্যা করা হয় নাহিদা আক্তার (১৬) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে। এ ঘটনায় শামীম ওরফে স্বপন (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যায় জড়িতের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে ধামরাই থানায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান।
গতকাল (শুক্রবার) ধামরাইয়ের লাকুড়িয়াপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৩ এপ্রিল বিকেলের দিকে ধামরাই পৌরসভার লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ির নিচতলায় একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার শামীম ওরফে স্বপন সাভারের আশুলিয়ার রহিমপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ধামরাইয়ের লাকুড়িয়াপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
লাকুড়িয়াপাড়ায় তার নানীর দেলোয়ারা বেগম (দুলী)সঙ্গে থাকতেন। তিনি ধামরাই সেন্ট্রাল স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। বাণিজ্য বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। পরিবার সুএ জনায় নিহতের মা লিজা আক্তার প্রবাসী ও বাবা নুর হোসেন বরিশালে থাকেন।
পুলিশ জানায়, ওই বাসায় নিহত ওই শিক্ষার্থী ও তার নানী থাকতেন। ঘটনার দিন বিকেলের দিকে তার নানী দুধ কিনতে বাইরে যান। তবে দুধ না পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাসায় ফিরে আসেন। এ সময় দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে ঢুকে নাহিদা আক্তারকে রক্তাক্ত জখম দেখতে পান। এ সময় তার মাথা, গলা ও বুকে কাটা জখম দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে ধামরাই ও সাভারের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর কানের প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের সোনার দুল, প্রায় ১ লাখ টাকা মূল্যের সোনার গলার চেইন, ৩৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি হাতের আংটি লুটে নেয় বলে গেছে দেখা যায় বলে জানায় পরিবার। এ ঘটনায় ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেছ পরীক্ষা নীরিক্ষা ও পযবখেন করে খুনিকে সনাক্তর পর তার স্ত্রী সহায়তা তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি স্বীকারোক্তি দিয়ে জানান, বিকেলের দিকে পাশের কক্ষ থেকে এসে দরজায় কড়া নাড়ে ওই ব্যক্তি। পূর্বপরিচিত হওয়ায় সরল বিশ্বাসে ওই তরুণী দরজা খুলে দেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তার কাছে টাকা ধার চান। এতে অস্বীকৃতি জানালে মুহুর্তের মধ্যে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরে রান্না ঘরের মেঝেতে ফেলে দিয়ে ওই ব্যক্তির কাছে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে তার গলা কাটে ও বুকে আঘাত রক্তাক্ত জখম করেন, এছাড়া মৃত্যু নিশ্চিতে শীলপাঠা পাথর দিয়ে তার মাথা ও কপালে আঘাত করে থেতলে দিয়ে হত্যা নিশ্চত করা হয়। এরপর ওই শিক্ষার্থীর কাছ থাকা গহনা ছিনিয়ে নিয়ে তিনি পালিয়ে যায় ঐ খুনী।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, হত্যার পর আসামি ভুক্তভোগীর স্বর্ণালঙ্কার লুট করে। ইতোমধ্যে নিহতের কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শীল পাটা-(পোতা)উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিবরণ অনুযায়ী, ধারালো চাকুটি ধামরাইয়ের শরীফবাগ এলাকায় নদীতে ফেলে দেন ঐ খুনী। এরইমধ্যে শরীফবাগ এলাকায় নদীতে ডুবুরি দিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। তবে চাকুটি পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন