দৃষ্টি প্রতিদিন
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ায় সংবাদ সম্মেলনে সাত ইউপি সদস্য

নন্দীগ্রামে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নন্দীগ্রামে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

বগুড়ার নন্দীগ্রামে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্যরা। লাখ লাখ টাকা আত্মসাত ও ঘটনা আড়াল করতে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মিথ্যাচার করছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন। 

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য যথাক্রমে বেদেনা বেগম, বিলকিস জাহান, মুকুল হোসেন, আক্কাস আলী, পুতুল রানী ও ফজলুর রহমান। 

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমরা একত্রিত হয়ে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করছি। থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের অবর্তমানে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক দায়িত্বে ছিলেন ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শামছুর রহমান। তিনি বাসা-বাড়ির বার্ষিক ট্যাক্স (ইউপি কর) ৬ লাখ টাকা গ্রহণ করে প্রায় ৩ মাস পরও জমা দেননি। জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য ১১৫জন গ্রাহক প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন। ইউপি সদস্য ও গ্রাহকদের কাছ থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান টাকা নিয়েও সরকারি নিয়মে জমা দেননি। এজন্য পরিষদ থেকে তাকে একাধিক লিখিত নোটিশ করা হয়েছে। তিনি সরকারি ভিজিএফ প্রায় ৪০ বস্তা চাল পরিষদ থেকে চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। মাদ্রাসাসহ অনেক দরিদ্র মানুষের নাম তালিকায় থাকলেও তারা চাল বঞ্চিত হয়েছেন। 

ইউপি সদস্যরা আরও বলেন, চাল চুরির একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার দিন ইউপি সদস্যরা চলে যাওয়ার পর জনশূন্য পরিষদে যান প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান ও তার ভাই যুবলীগ নেতা রুস্তম বাচ্চু। তার উপস্থিতিতে পরিষদ থেকে চাল বের করে অটোভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। গত ২৫ মার্চ নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন স্বপদে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর হঠাৎই উধাও হয়ে যান প্যানেল চেয়ারম্যান। তার অনিয়ম দুর্নীতি প্রকাশ পাবার পর থেকেই অনেকটা আড়ালে আছেন। সবগুলো ঘটনার সঠিক তথ্যে বেশ কয়কটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। টাকা আত্মসাৎ ও চাল চুরির ঘটনাকে আড়াল করতে গত ৪ এপ্রিল বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাপক মিথ্যাচার করেন প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান। তার অনিয়ম দুর্নীতির যথেষ্ট প্রমাণ আছে। তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বগুড়া সদর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ষড়যন্ত্র করে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল মতিনকে আসামি করা হয়। তাকে হত্যা মামলার আসামি উল্লেখ করেও মিথ্যাচার করেছে প্যানেল চেয়ারম্যান। 

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৃষ্টি প্রতিদিন

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


নন্দীগ্রামে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বগুড়ার নন্দীগ্রামে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্যরা। লাখ লাখ টাকা আত্মসাত ও ঘটনা আড়াল করতে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের নামে মিথ্যাচার করছেন বলেও তারা উল্লেখ করেন। 

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য যথাক্রমে বেদেনা বেগম, বিলকিস জাহান, মুকুল হোসেন, আক্কাস আলী, পুতুল রানী ও ফজলুর রহমান। 

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমরা একত্রিত হয়ে নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করছি। থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের অবর্তমানে প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক দায়িত্বে ছিলেন ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্যানেল চেয়ারম্যান-১ শামছুর রহমান। তিনি বাসা-বাড়ির বার্ষিক ট্যাক্স (ইউপি কর) ৬ লাখ টাকা গ্রহণ করে প্রায় ৩ মাস পরও জমা দেননি। জাতীয় স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় টুইনপিট ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য ১১৫জন গ্রাহক প্রত্যেকে ৫ হাজার টাকা করে জমা দিয়েছেন। ইউপি সদস্য ও গ্রাহকদের কাছ থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান টাকা নিয়েও সরকারি নিয়মে জমা দেননি। এজন্য পরিষদ থেকে তাকে একাধিক লিখিত নোটিশ করা হয়েছে। তিনি সরকারি ভিজিএফ প্রায় ৪০ বস্তা চাল পরিষদ থেকে চুরি করে কালোবাজারে বিক্রি করেছেন। মাদ্রাসাসহ অনেক দরিদ্র মানুষের নাম তালিকায় থাকলেও তারা চাল বঞ্চিত হয়েছেন। 

ইউপি সদস্যরা আরও বলেন, চাল চুরির একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার দিন ইউপি সদস্যরা চলে যাওয়ার পর জনশূন্য পরিষদে যান প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান ও তার ভাই যুবলীগ নেতা রুস্তম বাচ্চু। তার উপস্থিতিতে পরিষদ থেকে চাল বের করে অটোভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। গত ২৫ মার্চ নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন স্বপদে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পর হঠাৎই উধাও হয়ে যান প্যানেল চেয়ারম্যান। তার অনিয়ম দুর্নীতি প্রকাশ পাবার পর থেকেই অনেকটা আড়ালে আছেন। সবগুলো ঘটনার সঠিক তথ্যে বেশ কয়কটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। টাকা আত্মসাৎ ও চাল চুরির ঘটনাকে আড়াল করতে গত ৪ এপ্রিল বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাপক মিথ্যাচার করেন প্যানেল চেয়ারম্যান শামছুর রহমান। তার অনিয়ম দুর্নীতির যথেষ্ট প্রমাণ আছে। তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বগুড়া সদর থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ষড়যন্ত্র করে নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য আব্দুল মতিনকে আসামি করা হয়। তাকে হত্যা মামলার আসামি উল্লেখ করেও মিথ্যাচার করেছে প্যানেল চেয়ারম্যান। 


দৃষ্টি প্রতিদিন

প্রকাশক ও সম্পাদক এসএম আমিনুল মোমিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান


কপিরাইট © ২০২৬ দৃষ্টি প্রতিদিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত