বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক জর্ডান প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাতে চন্দনবাইসা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি দক্ষিণ পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘুঘুমারি গ্রামের বাসিন্দা ও জর্ডান প্রবাসী লিপি বেগম তার স্বামীর পৈতৃক ভিটায় সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকার চিহ্নিত অপরাধী সোহাগ ও আইয়ুব প্রামাণিকের নেতৃত্বে একদল যুবক তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টায় সোহাগ ও আইয়ুবের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল লিপি বেগমের বাড়িতে হানা দেয়। পুনরায় চাঁদা দাবি করলে লিপি বেগম তা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তাকে গালিগালাজ করে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার গলা থেকে ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
স্ত্রীর চিৎকার শুনে স্বামী আবুল কাসেম এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী আবুল কাসেম জানান, শিহাব, ইউসুফ, রাজিব, আকাশ, সাগর, জাকির, আইয়ুব, আমিনুর ও সাব্বিরসহ অজ্ঞাত ৫-৭ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। হামলাকারীরা তার কাছে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও টর্চলাইট ছিনিয়ে নেয়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল আকন্দ, রতন ও নূর মোহাম্মদ তাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান। দীর্ঘ চার দিন চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি বাড়িতে থাকলেও শঙ্কামুক্ত নন।
জর্ডান প্রবাসী লিপি বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, "আমি ১০ বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে টাকা জমিয়েছি দেশে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করার জন্য। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি, অথচ আজ নিজ দেশেই আমি নিরাপত্তাহীন। চাঁদা না দেওয়ায় আমার স্বামীকে আধমরা করা হয়েছে। এখন মামলা করলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
হামলার পর বেশ কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লিপি বেগমের দাবি, পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত জানলেও এখনো পর্যন্ত মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক জর্ডান প্রবাসীর নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাতে চন্দনবাইসা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি দক্ষিণ পাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেফতারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘুঘুমারি গ্রামের বাসিন্দা ও জর্ডান প্রবাসী লিপি বেগম তার স্বামীর পৈতৃক ভিটায় সঞ্চিত অর্থ দিয়ে একটি বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকার চিহ্নিত অপরাধী সোহাগ ও আইয়ুব প্রামাণিকের নেতৃত্বে একদল যুবক তার কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টায় সোহাগ ও আইয়ুবের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল লিপি বেগমের বাড়িতে হানা দেয়। পুনরায় চাঁদা দাবি করলে লিপি বেগম তা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তাকে গালিগালাজ করে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং তার গলা থেকে ২ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
স্ত্রীর চিৎকার শুনে স্বামী আবুল কাসেম এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী আবুল কাসেম জানান, শিহাব, ইউসুফ, রাজিব, আকাশ, সাগর, জাকির, আইয়ুব, আমিনুর ও সাব্বিরসহ অজ্ঞাত ৫-৭ জন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। হামলাকারীরা তার কাছে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও টর্চলাইট ছিনিয়ে নেয়।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল আকন্দ, রতন ও নূর মোহাম্মদ তাকে উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান। দীর্ঘ চার দিন চিকিৎসা শেষে বর্তমানে তিনি বাড়িতে থাকলেও শঙ্কামুক্ত নন।
জর্ডান প্রবাসী লিপি বেগম অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, "আমি ১০ বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে টাকা জমিয়েছি দেশে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই করার জন্য। রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি, অথচ আজ নিজ দেশেই আমি নিরাপত্তাহীন। চাঁদা না দেওয়ায় আমার স্বামীকে আধমরা করা হয়েছে। এখন মামলা করলে আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
হামলার পর বেশ কয়েক দিন অতিবাহিত হলেও আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। লিপি বেগমের দাবি, পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত জানলেও এখনো পর্যন্ত মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনেনি।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন