দৃষ্টি প্রতিদিন
প্রকাশ : বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬

খাঁচায় বন্দি শৈশব: ২০ মাস মা-হারা বিশেষ শিশু শাকিলার ‘জীবন্ত আর্তনাদ’

খাঁচায় বন্দি শৈশব: ২০ মাস মা-হারা বিশেষ শিশু শাকিলার ‘জীবন্ত আর্তনাদ’

একটি ছয় বছরের শিশু যখন অপহরণের বিভীষিকা থেকে ফিরে আসে, তখন সমাজ তাকে বুক দিয়ে আগলে রাখে। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের শাকিলা জাহান শোভনের জীবন যেন এক অন্তহীন অন্ধকারের গল্প। ২০ মাস ধরে এই বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী কিশোরীটি চার দেওয়ালের মাঝে তিল তিল করে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। তার অপরাধ কী? সে নিজেও জানে না। সে শুধু জানে, তার চিরচেনা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ‘মা’ আজ তার পাশে নেই।

​প্রতিটি অপরিচিত মানুষ দেখলেই বড় বড় জলভরা চোখে শাকিলার একটিই নিরন্তর প্রশ্ন "আমার আম্মু কই?"

শাকিলার মা আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা বর্তমানে দিনাজপুর জেলা কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। বাবা এটিএম সামসুজ্জোহার অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রোশ আর অপরাজনীতির নোংরা খেলায় বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে এক অসহায় মাকে। মিথ্যে আর সাজানো মামলার বেড়াজালে ২০টি মাস ধরে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে এই বিশেষ শিশুটিকে তার মায়ের কোল থেকে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে ঠিকই, কিন্তু সেই গতির নিচে পিষ্ট হয়ে যাচ্ছে একটি নিষ্পাপ প্রাণ।

চিকিৎসক থেকে শিক্ষক—সবার কন্ঠেই আজ চরম উদ্বেগ। ঠাকুরগাঁও সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রায় বলেন:

​"মা নেই বলে মেয়েটি দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। ওর জন্য এখন কোনো দামি ওষুধ কাজ করবে না; ওর সবচেয়ে বড় পথ্য হলো মায়ের মমতা।"

​ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. হাবিব-ই-রসূল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিশেষ শিশুটির মানসিক ও শারীরিক বিপর্যয় রুখতে মায়ের সান্নিধ্যের কোনো বিকল্প নেই। মা ছাড়া ও ক্রমে এক গভীর অন্ধকারের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে।

আইনজীবী আব্দুর রহিমের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটকে রাখা হয়েছে এক অসহায় মাকে। প্রশ্ন উঠেছে, যখন একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জীবন বিপন্ন, তখন আইনের শুষ্ক ধারার চেয়ে মানবিকতা কি বড় হতে পারে না? রাষ্ট্রের স্তম্ভগুলো কি একটি শিশুর নিরব কান্না অনুভব করতে পারে না?

​মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে এক পিতার আর্তি

​শাকিলা জাহান শোভন আজ কেবল একটি নাম নয়; সে আমাদের বিচারব্যবস্থা আর মানবিকতার এক জীবন্ত আয়না। কারাগারের ওপাশে মা কাঁদছেন মেয়ের জন্য, আর বাইরে অটিজম আক্রান্ত শিশুটি মায়ের স্পর্শের অভাবে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। ২০ মাসের দীর্ঘ অপেক্ষা আর কতদিন?

​ভুক্তভোগী পরিবার আজ নিরুপায় হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের   সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একটি বিশেষ শিশুর প্রাণ বাঁচাতে, তাকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে তারা আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৃষ্টি প্রতিদিন

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


খাঁচায় বন্দি শৈশব: ২০ মাস মা-হারা বিশেষ শিশু শাকিলার ‘জীবন্ত আর্তনাদ’

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

একটি ছয় বছরের শিশু যখন অপহরণের বিভীষিকা থেকে ফিরে আসে, তখন সমাজ তাকে বুক দিয়ে আগলে রাখে। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের শাকিলা জাহান শোভনের জীবন যেন এক অন্তহীন অন্ধকারের গল্প। ২০ মাস ধরে এই বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধী কিশোরীটি চার দেওয়ালের মাঝে তিল তিল করে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। তার অপরাধ কী? সে নিজেও জানে না। সে শুধু জানে, তার চিরচেনা পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ‘মা’ আজ তার পাশে নেই।

​প্রতিটি অপরিচিত মানুষ দেখলেই বড় বড় জলভরা চোখে শাকিলার একটিই নিরন্তর প্রশ্ন "আমার আম্মু কই?"

শাকিলার মা আঞ্জুমান আরা বেগম বন্যা বর্তমানে দিনাজপুর জেলা কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি। বাবা এটিএম সামসুজ্জোহার অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রোশ আর অপরাজনীতির নোংরা খেলায় বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে এক অসহায় মাকে। মিথ্যে আর সাজানো মামলার বেড়াজালে ২০টি মাস ধরে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে এই বিশেষ শিশুটিকে তার মায়ের কোল থেকে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে ঠিকই, কিন্তু সেই গতির নিচে পিষ্ট হয়ে যাচ্ছে একটি নিষ্পাপ প্রাণ।

চিকিৎসক থেকে শিক্ষক—সবার কন্ঠেই আজ চরম উদ্বেগ। ঠাকুরগাঁও সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্বপ্না রায় বলেন:

​"মা নেই বলে মেয়েটি দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। ওর জন্য এখন কোনো দামি ওষুধ কাজ করবে না; ওর সবচেয়ে বড় পথ্য হলো মায়ের মমতা।"

​ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. হাবিব-ই-রসূল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিশেষ শিশুটির মানসিক ও শারীরিক বিপর্যয় রুখতে মায়ের সান্নিধ্যের কোনো বিকল্প নেই। মা ছাড়া ও ক্রমে এক গভীর অন্ধকারের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে।

আইনজীবী আব্দুর রহিমের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আটকে রাখা হয়েছে এক অসহায় মাকে। প্রশ্ন উঠেছে, যখন একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর জীবন বিপন্ন, তখন আইনের শুষ্ক ধারার চেয়ে মানবিকতা কি বড় হতে পারে না? রাষ্ট্রের স্তম্ভগুলো কি একটি শিশুর নিরব কান্না অনুভব করতে পারে না?

​মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সমীপে এক পিতার আর্তি

​শাকিলা জাহান শোভন আজ কেবল একটি নাম নয়; সে আমাদের বিচারব্যবস্থা আর মানবিকতার এক জীবন্ত আয়না। কারাগারের ওপাশে মা কাঁদছেন মেয়ের জন্য, আর বাইরে অটিজম আক্রান্ত শিশুটি মায়ের স্পর্শের অভাবে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। ২০ মাসের দীর্ঘ অপেক্ষা আর কতদিন?

​ভুক্তভোগী পরিবার আজ নিরুপায় হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের   সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একটি বিশেষ শিশুর প্রাণ বাঁচাতে, তাকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে তারা আকুল আবেদন জানিয়েছেন।


দৃষ্টি প্রতিদিন

প্রকাশক ও সম্পাদক এসএম আমিনুল মোমিন, আইন বিষয়ক সম্পাদক, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান


কপিরাইট © ২০২৬ দৃষ্টি প্রতিদিন । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত