নতুন ভোরের নির্মল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নবীন-প্রবীণের প্রাণের স্পন্দনে সেজেছিল বগুড়া শেরপুরের প্রোগ্রেসিভ স্কুল এ্যান্ড কলেজ। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য আর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল শেকড় সন্ধানী এক বর্ণিল উৎসবের। দিনটির শুভ সূচনা হয় সকাল ৯টায় প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষে প্রথাগত পান্তা ভোজের মধ্য দিয়ে। মাটির ঘ্রাণ আর খাঁটি বাঙালিয়ানার আমেজে ইলিশ ভাজি, আলু ভর্তা, তিল ভর্তা, বাদাম ভর্তা এবং কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের ঝালে সিক্ত পান্তা ভাতের আস্বাদ যেন সবাইকে যান্ত্রিকতা ভুলিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল শেকড়ের টানে।
উৎসবের সবচেয়ে দৃষ্টিজুড়ানো দৃশ্য ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিরায়ত বাঙালি পোশাক। লাল-সাদার নান্দনিক মিশেলে পুরো ক্যাম্পাস যেন ধারণ করেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। বিশেষ করে সবার গলায় জড়ানো গ্রামীণ গামছা উৎসবের আবহে যোগ করেছিল এক অনন্য দেশজ মাত্রা। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ছিল বাঁধভাঙা আনন্দের ঝিলিক; তাদের বর্ণিল বৈশাখী সাজ, আল্পনা আঁকা হাত আর চঞ্চল পদচারণায় পুরো বিদ্যাপীঠ যেন জীবন্ত এক শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটি কর্মীর হাসিমুখ আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই মিলনমেলাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বেলা ১২টায় আয়োজিত বৈশাখী আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ফারুক ফয়সাল ও রুবেল রানা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মনিরুজ্জামান লিমন, হেলালুজ্জামান রানা, মো. রেদোনায়ানুল ইসলাম, ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টি সহ অন্যান্য গুণীজনরা। বক্তারা তাদের বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঙালি সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী আকর্ষণ ছিল বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির শৈল্পিক উপস্থাপনা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুনিপুণ আবৃত্তি আর লোকজ সুরের মূর্ছনায় পরিবেশিত নৃত্য দর্শকদের দারুণভাবে বিমোহিত করে। গ্রামীণ জীবনের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে আয়োজন করা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী সব গ্রামীণ খেলাধুলার, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি করেছিল এক দারুণ উদ্দীপনা। অনুষ্ঠানের শেষভাগে ছিল সুরের জাদুকরী মূর্ছনা। নাহিদ হাসান রবিনের সাবলীল সঞ্চালনা এবং আরিফাতুল আজাদ প্রীতির নিপুণ পরিচালনা ও জাহিদ হাসান রিপনের সহযোগিতায় মঞ্চে ফুটে ওঠে বাংলার আদি সংস্কৃতি। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় কালজয়ী সব বাংলা গান। সেই সুরের ধারা, গ্রামীণ ক্রীড়ার আনন্দ আর উপস্থিত সবার স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসে প্রোগ্রেসিভ স্কুল এ্যান্ড কলেজের এই আয়োজনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাঙালি সত্তাকে পুনর্জাগরণের এক বলিষ্ঠ শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রইল।

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
নতুন ভোরের নির্মল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নবীন-প্রবীণের প্রাণের স্পন্দনে সেজেছিল বগুড়া শেরপুরের প্রোগ্রেসিভ স্কুল এ্যান্ড কলেজ। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য আর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নিতে প্রতিষ্ঠানটি আয়োজন করেছিল শেকড় সন্ধানী এক বর্ণিল উৎসবের। দিনটির শুভ সূচনা হয় সকাল ৯টায় প্রতিষ্ঠানের সভাকক্ষে প্রথাগত পান্তা ভোজের মধ্য দিয়ে। মাটির ঘ্রাণ আর খাঁটি বাঙালিয়ানার আমেজে ইলিশ ভাজি, আলু ভর্তা, তিল ভর্তা, বাদাম ভর্তা এবং কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজের ঝালে সিক্ত পান্তা ভাতের আস্বাদ যেন সবাইকে যান্ত্রিকতা ভুলিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল শেকড়ের টানে।
উৎসবের সবচেয়ে দৃষ্টিজুড়ানো দৃশ্য ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিরায়ত বাঙালি পোশাক। লাল-সাদার নান্দনিক মিশেলে পুরো ক্যাম্পাস যেন ধারণ করেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ। বিশেষ করে সবার গলায় জড়ানো গ্রামীণ গামছা উৎসবের আবহে যোগ করেছিল এক অনন্য দেশজ মাত্রা। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ছিল বাঁধভাঙা আনন্দের ঝিলিক; তাদের বর্ণিল বৈশাখী সাজ, আল্পনা আঁকা হাত আর চঞ্চল পদচারণায় পুরো বিদ্যাপীঠ যেন জীবন্ত এক শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটি কর্মীর হাসিমুখ আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই মিলনমেলাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বেলা ১২টায় আয়োজিত বৈশাখী আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ফারুক ফয়সাল ও রুবেল রানা। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মনিরুজ্জামান লিমন, হেলালুজ্জামান রানা, মো. রেদোনায়ানুল ইসলাম, ফাতেমাতুজ জোহরা বৃষ্টি সহ অন্যান্য গুণীজনরা। বক্তারা তাদের বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের মাঝে বাঙালি সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী আকর্ষণ ছিল বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতির শৈল্পিক উপস্থাপনা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সুনিপুণ আবৃত্তি আর লোকজ সুরের মূর্ছনায় পরিবেশিত নৃত্য দর্শকদের দারুণভাবে বিমোহিত করে। গ্রামীণ জীবনের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে আয়োজন করা হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী সব গ্রামীণ খেলাধুলার, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি করেছিল এক দারুণ উদ্দীপনা। অনুষ্ঠানের শেষভাগে ছিল সুরের জাদুকরী মূর্ছনা। নাহিদ হাসান রবিনের সাবলীল সঞ্চালনা এবং আরিফাতুল আজাদ প্রীতির নিপুণ পরিচালনা ও জাহিদ হাসান রিপনের সহযোগিতায় মঞ্চে ফুটে ওঠে বাংলার আদি সংস্কৃতি। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় কালজয়ী সব বাংলা গান। সেই সুরের ধারা, গ্রামীণ ক্রীড়ার আনন্দ আর উপস্থিত সবার স্বতঃস্ফূর্ত উচ্ছ্বাসে প্রোগ্রেসিভ স্কুল এ্যান্ড কলেজের এই আয়োজনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাঙালি সত্তাকে পুনর্জাগরণের এক বলিষ্ঠ শৈল্পিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রইল।

আপনার মতামত লিখুন