বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু সময় আসে, যখন শক্তির ভারসাম্য হঠাৎ করে নয়, বরং ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে। কিন্তু সেই নীরব পরিবর্তনকে অনেক সময় একটি বড় সংঘাত দৃশ্যমান করে তোলে। বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র–এর সংঘাতপূর্ণ সম্পর্ক—তা বিশ্বরাজনীতির নতুন শক্তিসমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি বিশ্ব মাতব্বরদের ক্ষমতার রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্য ছিল বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তেল, জ্বালানি, ভূরাজনৈতিক অবস্থান এবং ধর্মীয়-রাজনৈতিক জটিলতা—সবকিছু মিলিয়ে এই অঞ্চলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর আগ্রহ কখনো কমেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল–এর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা এখন প্রায় সরাসরি সামরিক সংঘর্ষের পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।ইসরায়েল বরাবরই দাবি করে আসছে যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। অন্যদিকে ইরান মনে করে, ইসরায়েল ও তার মিত্ররা অঞ্চলজুড়ে তাদের কৌশলগত প্রভাব দুর্বল করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। এই দ্বন্দ্ব নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এটিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।এই সংঘাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধান কৌশলগত মিত্র। সামরিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং কূটনৈতিক সমর্থনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেল আবিবকে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। ফলে ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা যখনই বৃদ্ধি পায়, তখন সেটি প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রকেও সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুর দিকে টেনে আনে।বিশ্ব রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এই সংঘাতের তাৎপর্য আরও গভীর। কারণ এটি শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করছে না; বরং বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণও সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে রাশিয়া ও চীন–এর সঙ্গে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বড় সংঘাত দ্রুতই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক রাজনীতির অংশ হয়ে উঠতে পারে।এই বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্য যেন আবারও বিশ্ব শক্তির দাবার বোর্ডে পরিণত হয়েছে। একদিকে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র জোট, অন্যদিকে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব—এই দুই শক্তির টানাপোড়েন বিশ্বরাজনীতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্য—সবকিছুই এই সংঘাতের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে।তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনার পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো গাজা সংকট। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা উপত্যকা–কে ঘিরে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক জনমত এবং কূটনৈতিক রাজনীতিকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। মানবিক বিপর্যয়, অবরোধ এবং সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় এই সংকট এখন আর কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয় নয়; বরং এটি বিশ্ব রাজনীতির নৈতিকতা ও মানবাধিকার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে পশ্চিমা শক্তির কূটনৈতিক অবস্থান, অন্যদিকে উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রতিবাদ—এই দ্বৈত বাস্তবতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।এর পাশাপাশি জ্বালানি রাজনীতি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তাও এই সংঘাতকে বৈশ্বিক মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর ও আশপাশের সামুদ্রিক অঞ্চলে নিরাপত্তা সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সমুদ্রপথ দিয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার বিপুল পরিমাণ পণ্য ও জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন কেবল ভূরাজনৈতিক নয়; এটি জ্বালানি অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক রাজনীতির নৈতিকতার প্রশ্ন। বড় শক্তিগুলো প্রায়ই গণতন্ত্র, মানবাধিকার কিংবা নিরাপত্তার নামে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। ফলে ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলো অনেক সময় এই প্রতিযোগিতার মাঝে কেবল কৌশলগত ক্ষেত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা সেই বাস্তবতার আরেকটি স্পষ্ট উদাহরণ।বিশ্ব মাতব্বরদের এই প্রতিযোগিতার ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতির চরিত্রও বদলে যাচ্ছে। একসময় যেখানে একটি একক শক্তি বহু সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করত, এখন সেখানে বহু শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা দৃশ্যমান। এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠছে। কারণ এখন কোনো সংঘাতই এককভাবে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা দ্রুতই আঞ্চলিক সীমানা অতিক্রম করে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তাই বিশ্বরাজনীতির সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে—বিশ্ব কি নতুন ধরনের শক্তির ভারসাম্যের দিকে এগোচ্ছে, নাকি আবারও বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক অস্থির যুগে প্রবেশ করছে? যদি ইরান–ইসরায়েল সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সংকট থাকবে না; বরং বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলবে।এই প্রেক্ষাপটে “বিশ্ব মাতব্বর” ধারণাটিও নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে। নেতৃত্ব যদি কেবল সামরিক শক্তি ও আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে বিশ্বব্যবস্থা বারবার সংঘাতের মুখে পড়বে। কিন্তু যদি শক্তির সঙ্গে দায়িত্ববোধ ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞা যুক্ত হয়, তাহলে সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি হতে পারে।আজকের বিশ্বে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—ক্ষমতার প্রতিযোগিতা ও শান্তির রাজনীতির মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া। ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা সেই চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্রভাবে সামনে এনেছে। কারণ এই সংঘাত কেবল তিনটি দেশের সম্পর্কের প্রশ্ন নয়; এটি পুরো বিশ্বব্যবস্থার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি প্রতীকী অধ্যায়।অতএব বলা যায়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব মাতব্বররা সত্যিই পরিবর্তনের পথে। কিন্তু সেই পরিবর্তন যদি সংঘাতের আগুনে গড়ে ওঠে, তবে তা মানবসভ্যতার জন্য অশনি সংকেত হয়ে উঠতে পারে। আর যদি কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও সহযোগিতার মাধ্যমে নতুন ভারসাম্য তৈরি হয়, তাহলে এই পরিবর্তনই হয়তো ভবিষ্যতের আরও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে।লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট।
অনলাইন জরিপ
সারাদেশ
রাজনীতি
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের আস্থার এক প্রতীক বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার। প্রাণের চেয়েও প্রিয় নেতার স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে জেলা শহরের অলিগলি ছাড়িয়ে অজপাড়া গাঁয়ের তৃণমূল মানুষের দ্বারে দুর্বার গতিতে ছুটে চলার সফরসঙ্গী তরুণ এই প্রতিবেদক।সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে বেড়ে ওঠা এই দায়িত্বশীল নেতৃত্বে বগুড়ার ছাত্রদল শুধুমাত্র সভা-সমাবেশ ও দলীয় স্লোগানের গণ্ডি পেরিয়ে মানবিক কর্মকাণ্ডে প্রশংসা কুড়াচ্ছে সর্বমহলে। উদ্দেশ্য জিয়া পরিবারের বিশ্বাসের মর্যাদা সততা ও নিষ্ঠার সাথে রক্ষার সংগ্রাম। মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তৃণমূলের দ্বারে দ্বারে জেলা ছাত্রদলের সরব উপস্থিতি বিএনপির রাজনীতিতে আস্থা বৃদ্ধি করেছে। বগুড়া জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের বিনম্রতায় সন্তুষ্ট মানুষ ও দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকারের নেতৃত্বে তাদের দুরন্ত পথচলা অব্যাহত জনপ্রয়োজনে।রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরেও প্রতিনিয়ত মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন হাবিবুর রশিদ সন্ধান। সম্প্রতি তার নেতৃত্বে গৃহীত বেশ কিছু মানবিক কর্মসূচি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে প্রচলিত ইফতার মাহফিলের পরিবর্তে সেই অর্থ দিয়ে জেলার অসহায় মানুষের মাঝে মাসব্যাপী ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। তার নেতৃত্বে কখনও পথচারী, ছিন্নমূল, অবহেলিত, কখনও এতিম, সুবিধাবঞ্চিত, আবার কখনও বৃদ্ধাশ্রমে ইফতার সামগ্রী নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।কেবল খাদ্য সহায়তা নয়, বরং শিক্ষার প্রসারেও কাজ করছেন তরুণ এই ছাত্রনেতা। অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে শহরের স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ‘ছাত্রদলের প্রাক-প্রাথমিক পাঠশালা’ নামে একটি বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে জেলা ছাত্রদল। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সন্ধানের নেতৃত্বে উদ্বোধন হওয়া এই পাঠশালায় শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বই, খাতা, পেন্সিলসহ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং মেধাবী ছাত্রদল নেতারা স্বেচ্ছাশ্রমে তাদের পাঠদান করেন। শিক্ষার প্রতি তার এই গভীর অনুরাগ বগুড়াবাসীকে মুগ্ধ করেছে।জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে বগুড়ার রাজপথে সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হাবিবুর রশিদ সন্ধান। বুলেট ও টিয়ারশেলের তোয়াক্কা না করে স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে রাজপথ আঁকড়ে ধরেছিলেন তিনি। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, তার হৃদয়ে রয়েছে দেশপ্রেম আর নেতার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও ভালোবাসা। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ হবে একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন আধুনিক রাষ্ট্র।একজন আদর্শ নেতার প্রধান গুণ হলো নিজের কর্মীদের বিপদে পাশে থাকা। হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার ঠিক সেই নেতৃত্বের প্রতীক। বিগত দিনের আন্দোলনে নির্যাতিত, কারাবন্দী ও দিনে বা রাতে অসুস্থ নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়া তার নিত্যদিনের কর্মকাণ্ড। কোনো নেতাকর্মীর আর্থিক সংকট থাকলে কিংবা কেউ অসুস্থ হলে তিনি বড় ভাইয়ের মতো পাশে দাঁড়ান। তার এই অভিভাবকসুলভ আচরণই বগুড়া জেলা ছাত্রদলকে একটি শক্তিশালী পরিবারের মতো ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে।বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সবচেয়ে প্রশংসিত উদ্যোগ হলো ‘জেলা ছাত্রদল ব্লাড ব্যাংক’। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে যখনই কোনো অসহায় রোগী রক্তের অভাবে সংকটে পড়েন, খবর পাওয়া মাত্রই সন্ধানের নির্দেশে ছাত্রদলের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে যান। গভীর রাতেও বাইক নিয়ে রক্ত দিতে যাওয়ার দৃশ্য বগুড়াবাসীর কাছে আজও পরিচিত। সন্ধান সরকারের মতে, “একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া মানে একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো, আর এটাই জিয়া পরিবারের রাজনীতির শিক্ষা।”নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার সবসময় একটিই বার্তা দেন - “আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ছাত্রদলকে হতে হবে অতন্দ্র প্রহরী। মেধা ও সাহসের সমন্বয়ে আমাদের সামনের দিনগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।” তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা মনে করেন, যোগ্য নেতৃত্ব এবং ত্যাগের বিনিময়ে সন্ধান সরকার আজ বগুড়ার রাজনীতিতে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন, যার প্রতিফলন আগামী দিনের রাজনীতিতে আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।সরেজমিনে জেলা ছাত্রদলের এই সভাপতির সফরসঙ্গী হয়ে দেখা যায়, তার নেতৃত্বের জাদুকরী স্পর্শে বগুড়া জেলা ছাত্রদল এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংগঠিত। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার কেবল একজন নেতাই নন, কর্মীদের বিপদে-আপদে তিনি একজন বড় ভাইয়ের মতো ছায়া হয়ে দাঁড়ান। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে কোনো ষড়যন্ত্রই তাকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।বগুড়া জেলা ছাত্রদলের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তরুণ এই ছাত্রনেতা ব্যস্ত সময় পার করছেন জিয়া পরিবারের আস্থা বাস্তবায়নে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা, সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যে অটল হাবিবুর রশিদ সন্ধান। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সক্রিয়তা ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই বগুড়া জেলা ছাত্রদলের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার নেতৃত্বে বগুড়া জেলা ছাত্রদল ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শেরপুর কলেজের সাবেক ভিপি আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম মিন্টু। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি নিজের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং পৌরবাসীর কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, "শেরপুর পৌরসভা প্রাচীন জনপদ হলেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে এখনো অনেক পিছিয়ে। দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে আমি জনগণের একজন প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। অতীতেও আমি সর্বদা সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকতে চাই।"একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও জনবান্ধব পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলেন, "আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে যদি আমি নির্বাচিত হই, তবে আমার প্রধান কাজ হবে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাস নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। শেরপুরকে একটি শান্তিময় ও নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করাই আমার লক্ষ্য।"জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে শেরপুর পৌরসভাকে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও সেবামুখী পৌরসভায় রূপান্তর করে উন্নয়নের সুফল যেন প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেই চেষ্টাই তাঁর সর্বোচ্চ থাকবে বলে জানান রফিকুল ইসলাম মিন্টু।শেরপুর পৌরসভার এই জনপ্রিয় নেতার প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য । তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সাধারণ মানুষের সাথে গভীর সম্পৃক্ততা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইতিমধ্যেই পৌর এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় তাঁর সমর্থনে নেতাকর্মীদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনসেবার মহান ব্রত নিয়ে সকল বাধা পেরিয়ে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ শেরপুর গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
বগুড়ার ধুনট পৌরসভার বাসিন্দাদের সেবায় আসন্ন মেয়র নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন চঞ্চল। বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা জানান।বর্তমানে তিনি ধুনট পৌর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। ধুনট সরকারি ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর থেকেই তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।দলীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি একজন পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য মুখ। শুভাকাঙ্ক্ষীদের দাবির প্রেক্ষিতে তার প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় স্থানীয় তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ধুনট পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান সংবাদ কর্মীদের বলেন, মাহবুব হোসেন চঞ্চল একজন উচ্চশিক্ষিত, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তি। মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় তিনি শিক্ষিত, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মাহবুব হোসেন চঞ্চল নির্বাচিত হলে ধুনট পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ধুনটকে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি কাজ করবেন। কিশোর-কিশোরীদের জন্য খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।এ বিষয়ে মাহবুব হোসেন চঞ্চল বলেন, “ধুনট পৌরসভা উন্নয়নের দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করে জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ নেতৃত্বের মাধ্যমে ধুনটকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য পৌরসভায় রূপান্তর করা সম্ভব।”তিনি আরও বলেন, “ধুনট শহরে সহজলভ্য মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে চাই।”পৌরবাসীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বগুড়ায় ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে জেলা ছাত্রদল। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আদমদীঘি উপজেলার এমদাদুল উলুম ক্বওমী মাদ্রাসায় ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার। এ সময় তিনি বলেন, রমজান মাস আত্মসংযম ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বগুড়া জেলা ছাত্রদল এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামীতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান হাবিবুর রশিদ সন্ধান।জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আহমেদ কাউসার দ্বীপ এর সার্বিক সহযোগিতায় ছাত্রদলের এ মহতী উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রবিউল আলম রকি, আদমদীঘি উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আবুল বাশার মারুফ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈকত সরকার, সান্তাহার পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমেদ ছনি, সিনিয়র সহ-সভাপতি শিমুল সরদার সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবিদ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকাশ, সান্তাহার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব আলম, রহিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সেজান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক বজলুর তৌহিদ সাব্বির, শেরপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এসএম ফারহান লাবিব ও আদমদিঘী উপজেলা ছাত্রদল নেতা আব্দুল আউয়াল মুন্না, জেমস আহমেদ বাপ্পি, বিপ্লব আহমেদ, ফিরোজ রহমান, আবু দারদা রিফাত, শাফিউল, সৌরভ রাজ, আতিকুল, কাউসার ও মুগ্ধসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।শেষে উপস্থিত এলাকাবাসী বগুড়া জেলা ছাত্রদলের এ মানবিক উদ্যোগকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান। তারা বলেন, রমজানের পবিত্রতায় এমন মানবিক সহায়তা সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
উপনির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ায় পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১০ মার্চ তাঁর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে নির্বাচনী বিধি বিবেচনায় সফরটি আপাতত বাতিল করা হয়েছে।আজ মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ১০ মার্চের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন তারিখ জানানো হবে।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকেও বিজয়ী হন। বিধি অনুযায়ী শপথের আগে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেন।প্রধানমন্ত্রীর ছেড়ে দেওয়া এ আসনে আগামী ৯ এপ্রিল উপনির্বাচনের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলের জেলা কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বগুড়া সদর আসনে উপনির্বাচন চলমান থাকায় এ সময়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি আয়োজন করলে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের প্রশ্ন উঠতে পারত। তিনি দাবি করেন, নিয়মের মধ্যেই থাকতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার শিবগঞ্জ সফরে এসে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধনে বগুড়ায় আসবেন প্রধানমন্ত্রী।আগামী ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উপনির্বাচনে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মোট তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
বগুড়ার শেরপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ও রাজনীতিবিদ আরিফুর রহমান মিলন। সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় শেরপুরের ধুনট মোড় বন্দর মটর শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার আয়োজনে এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই ঘোষণা দেন।আরিফুর রহমান মিলন শেরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। বর্তমানে তিনি বগুড়া জেলা বাস-মিনি কোচ ও মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।ধুনট মোড় সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, শেরপুর-ধুনট বন্দর মটর শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শওকত খন্দকার। সাধারণ সম্পাদক রাজু মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জানে আলম মিন্টু, কার্যকরী সভাপতি, শেরপুর-ধুনট বন্দর মটর শ্রমিক কল্যাণ সংস্থা। মোখলেছুর রহমান, শহর তাঁতী দলের সভাপতি ওশেরপুর-ধুনট বন্দর মটর শ্রমিক কল্যাণ সংস্থা উপদেষ্টা।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা সোবহান মেম্বার, কাজল মেম্বার, ফজলুল হক সেটু মিস্ত্রি, মোজাম ড্রাইভার,উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং শেরপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দোয়া চেয়ে আরিফুর রহমান মিলন বলেন, "জনগণের সেবা এবং শ্রমিক অধিকার রক্ষায় আমি সবসময় মাঠে ছিলাম। আগামী নির্বাচনে আপনাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে আবারও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়তে চাই।" তার এই ঘোষণার পরপরই উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দেয়।অনুষ্ঠানে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে দোয়া এবং মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।