জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ঠাকুরগাঁওয়ে এখনো সংকট কাটেনি। বরং ফিলিং স্টেশন ঘিরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। নতুন দামে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিন বিক্রির ঘোষণার পরেও জেলার ৩৭টি পাম্পের অধিকাংশেই প্রায় দিনেই ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। যে কয়েকটি পাম্প খোলা থাকে, সেখানে তেল পেতে গ্রাহকদের লম্বা লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে জেলা শহরের কয়েকটি পাম্পে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজী পেট্রোল পাম্প, এনামুল ফিলিং স্টেশন, বাঁধন কাঁকন, চৌধুরী পাম্প, সুরমা ও রূপসী বাংলাসহ জেলার প্রায় প্রতিটি স্টেশনে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করছে। বাইকাররা আগের দিন বিকেল থেকে পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল রেখে যাচ্ছেন। পরে সেই গাড়ি সারারাত পাহাড়ার নামে চক্রের সদস্যরা ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন । এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না, কারণ তারা প্রকাশ্যে হুমকী-ধামকী আর সন্ত্রাসী মহড়া দিয়ে চলাফেরা করে আসছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ করা হলে, স্থানীয় প্রশাসন শুনেও শুনেন না, দেখেও দেখেন না, কারণ চক্রটি রাতব্যাপী করছে এ বাণিজ্য। এদিকে, মাঝে মধ্যে অনিয়মের অভিযোগে দুই/একজন ব্যক্তিকে প্রশাসন জরিমানা করলেও যাদের মধ্যে অধিকাংশ অসহায়, নিরীহ, সাধারণ বাইকার। আবার অনেক গণমাধ্য্যমকর্মী কিছু ম্যাজিস্ট্রের ব্যক্তিগত রোশানলের শিকার হয়েছেন। আবার কোথাও কোথাও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাগণ গণমাধ্য্যমকর্মীসহ সাধারণ বাইকারদের সাথে প্রচন্ড দূর্ব্যবহার করছেন এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর সিংপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী হাসান জানান, আগের দিন ১শ’ টাকা দিয়ে গাড়ি রেখেও পরের দিন বেলা ১১টার আগ পর্যন্ত তেল পাইনি, সংকটের কারণে তেল শেষ হয়ে যায়। এছাড়াও একটি বিশেষ চক্রকে টাকা না দিলে আগে সিরিয়াল পাওয়া যায় না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে।
ব্যবসায়ী সোলায়মান আলী অভিযোগ করে বলেন, আগে সিরিয়ালের জন্য ৫০ টাকা নেওয়া হলেও এখন তা ১শ’ টাকা করা হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা দিলে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ ছাড়া এমন সিন্ডিকেট সম্ভব নয় এমনটাই জানান তিনি।
একটি চক্র প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেল লাইনে রেখে তেল সংগ্রহ করে তা কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে বলে দাবি করেন সালন্দরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম। তবে অভিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য সেলিম ও সুমন দাবি করেছেন, তারা পাম্প কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করছেন। অন্যদিকে এনামুল পাম্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরোজ হক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও কৃষি খাতে। ট্রাক চালক হান্নান শাহ বলেন, ‘তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর দামও বাড়তি। আমাদের তো পরিবার আছে, বাধ্য হয়েই ট্রাক ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছি।’
কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এতে আমাদের ফসল উৎপাদনের খরচ বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়বে।’
পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মাশরুর হাসান বলেন, জনবল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা না থাকায় অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল না দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ঠাকুরগাঁওয়ে এখনো সংকট কাটেনি। বরং ফিলিং স্টেশন ঘিরে গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। নতুন দামে ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিন বিক্রির ঘোষণার পরেও জেলার ৩৭টি পাম্পের অধিকাংশেই প্রায় দিনেই ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। যে কয়েকটি পাম্প খোলা থাকে, সেখানে তেল পেতে গ্রাহকদের লম্বা লাইনে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে জেলা শহরের কয়েকটি পাম্পে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজী পেট্রোল পাম্প, এনামুল ফিলিং স্টেশন, বাঁধন কাঁকন, চৌধুরী পাম্প, সুরমা ও রূপসী বাংলাসহ জেলার প্রায় প্রতিটি স্টেশনে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি প্রভাবশালী চক্র সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করছে। বাইকাররা আগের দিন বিকেল থেকে পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল রেখে যাচ্ছেন। পরে সেই গাড়ি সারারাত পাহাড়ার নামে চক্রের সদস্যরা ১শ’ থেকে ২শ’ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন । এই চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না, কারণ তারা প্রকাশ্যে হুমকী-ধামকী আর সন্ত্রাসী মহড়া দিয়ে চলাফেরা করে আসছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ করা হলে, স্থানীয় প্রশাসন শুনেও শুনেন না, দেখেও দেখেন না, কারণ চক্রটি রাতব্যাপী করছে এ বাণিজ্য। এদিকে, মাঝে মধ্যে অনিয়মের অভিযোগে দুই/একজন ব্যক্তিকে প্রশাসন জরিমানা করলেও যাদের মধ্যে অধিকাংশ অসহায়, নিরীহ, সাধারণ বাইকার। আবার অনেক গণমাধ্য্যমকর্মী কিছু ম্যাজিস্ট্রের ব্যক্তিগত রোশানলের শিকার হয়েছেন। আবার কোথাও কোথাও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাগণ গণমাধ্য্যমকর্মীসহ সাধারণ বাইকারদের সাথে প্রচন্ড দূর্ব্যবহার করছেন এবং বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে ।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর সিংপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী হাসান জানান, আগের দিন ১শ’ টাকা দিয়ে গাড়ি রেখেও পরের দিন বেলা ১১টার আগ পর্যন্ত তেল পাইনি, সংকটের কারণে তেল শেষ হয়ে যায়। এছাড়াও একটি বিশেষ চক্রকে টাকা না দিলে আগে সিরিয়াল পাওয়া যায় না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে।
ব্যবসায়ী সোলায়মান আলী অভিযোগ করে বলেন, আগে সিরিয়ালের জন্য ৫০ টাকা নেওয়া হলেও এখন তা ১শ’ টাকা করা হয়েছে। অতিরিক্ত টাকা দিলে ফুয়েল কার্ড ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্প কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ ছাড়া এমন সিন্ডিকেট সম্ভব নয় এমনটাই জানান তিনি।
একটি চক্র প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি মোটরসাইকেল লাইনে রেখে তেল সংগ্রহ করে তা কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে বলে দাবি করেন সালন্দরের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম। তবে অভিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য সেলিম ও সুমন দাবি করেছেন, তারা পাম্প কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণ করছেন। অন্যদিকে এনামুল পাম্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরোজ হক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এই জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে পরিবহন ও কৃষি খাতে। ট্রাক চালক হান্নান শাহ বলেন, ‘তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তার ওপর দামও বাড়তি। আমাদের তো পরিবার আছে, বাধ্য হয়েই ট্রাক ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছি।’
কৃষক হামিদুর রহমান বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় সেচ খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এতে আমাদের ফসল উৎপাদনের খরচ বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপর পড়বে।’
পাম্পে দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার ও বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মাশরুর হাসান বলেন, জনবল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা না থাকায় অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফুয়েল কার্ড ছাড়া তেল না দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন