রেলের যায়গা একসনা লীজ নিয়ে রেল গোডাউনে রক্ষিত পুরাতন মালামালসহ বাউন্ডারির টিন লুট করেছে লীজগ্রহিতা আব্দুল মান্নান।
স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, গত ১৬ মার্চ/২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী/পথ/আমনুরা এর অধীনে নাচোল ৩ নং গ্যাং এর রিলিজকৃত মালামাল সংগ্রহের জন্য গোডাউন তৈরির অনুমোদন দেয়া হয়। নাচোল স্টেশনের প্লাটফর্মের দক্ষিনে অবস্থিত পরিত্যক্ত পৌর এলাকার শ্রীরামপুর মৌজার জে এল নং-৭৫, বাংলাদেশ রেলওয়ে খতিয়ান নং-আর এস-০২, দাগ নং (আর এস ১২০/অংশ, ১২১/অংশ) পরিমান-১৮২৬৯ বর্গফুটের জমিটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়।
রেলওয়ের এসএসএই/ওয়ে পার্বতীপুর শেখ আল আমিন জানান, তিন যখন আমনুরাতে এসএসএই(ওয়ে) পদে কর্মরত ছিলেন তখন কার এইএন/রাজশাহী এবং ডিইএন-২/পাকশী স্যারদের অনুমতি নিয়ে নাচোল প্লাটফর্ম এর পাশে রেললাইনের ব্যবহৃত মালামাল রাখার জন্য একটি অস্থায়ী গোডাউন তৈরী করা হয়েছিলো।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় , দুই বছর আগে রেলওয়ের গোডাউন এর যায়গাটা অসাধু কিছু কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোডাউনটি লিজ দিয়ে দেয়। রেলওয়ের গোডাউনটি কাউকে কিছু না বলেই চার ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে ভেঙ্গে ফেলে ও মালামাল লুট করার চেষ্টা করে। পরে জি আর পি এবং আর এন বির হস্তক্ষেপে মালামাল লুটপাটের চেষ্টা ব্যহত হয়। কিন্তু মালামালগুলি এখনো অরক্ষিত অবস্থায় আছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলো শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান ও মারুফ, দেওপাড়া গ্রামের খাইরুল এবং মোমিন পাড়ার বাইরুল।
রেল গোডাউনের পুরাতন মালামাল লুটের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান জানান, তিনি নিয়ম মাফিক লীজ নিয়েই ওই স্থান আবাদের জন্য পুরাতন ও অকেজো মালামাল ফেলে দিয়ে তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দখলে রেখেছেন।
লীজের বিষয়ে আমনুরার এসএসএই/ওয়ে (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম বাকিয়াতুল্লাহ্ জানান, লীজ গ্রহিতা টিন খুলে ফেলেছে এবং স্লিপারগুলো সরিয়ে রাখছে বলে শুনেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কারো সাথে যোগাযোগ করেনি। গোডাউনের মালামালের চার্জ বুঝে নেননি, তাই কি পরিমান মালামাল সরিয়েছে তা বলতে পারেননি। তবে বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
আমনুরা রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফোর্স ও আর এন বিওকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল মান্নানকে চার্জ করলে আঃ মান্নান জানায় তারা লিজ নিয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ভেঙ্গে তারা অপরাধ করেছে।
১০নং কাচারি বাংলাদেশ রেলওয়ে আমনুরার সার্ভেয়ার(আমিন) শেখ ফরিদ উদ্দীন গত ২১ এপ্রিল/’২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত লীজের চেকে "জিএম পশ্চিমাঞ্চল মহাদয়ের নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো" নোট লিখে দেন। পূর্বে থেকে রেল গোডাউনের যায়গা লীজের বিষয়ে
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাপরিচালক ফরিদ আহম্মেদ জানান, ওইস্থানে রেলের গোডাউন ছিল এটি তাঁর জানা ছিলনা, তাই লীজ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে লীজ বাতিল করা হবে।
এদিকে বিগত ৮ বছরের রেলগোডাউনের ৪২ শতক যায়গা লীজ দেওয়া ও লীজ গ্রহিতা প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল আত্মসাতের পরও রেল কর্তৃপক্ষের নীরবতায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
রেলের যায়গা একসনা লীজ নিয়ে রেল গোডাউনে রক্ষিত পুরাতন মালামালসহ বাউন্ডারির টিন লুট করেছে লীজগ্রহিতা আব্দুল মান্নান।
স্থানীয়সূত্রে জানাগেছে, গত ১৬ মার্চ/২০১৯ তারিখে বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আবদুর রহিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে উর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী/পথ/আমনুরা এর অধীনে নাচোল ৩ নং গ্যাং এর রিলিজকৃত মালামাল সংগ্রহের জন্য গোডাউন তৈরির অনুমোদন দেয়া হয়। নাচোল স্টেশনের প্লাটফর্মের দক্ষিনে অবস্থিত পরিত্যক্ত পৌর এলাকার শ্রীরামপুর মৌজার জে এল নং-৭৫, বাংলাদেশ রেলওয়ে খতিয়ান নং-আর এস-০২, দাগ নং (আর এস ১২০/অংশ, ১২১/অংশ) পরিমান-১৮২৬৯ বর্গফুটের জমিটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অনুমতি দেয়া হয়।
রেলওয়ের এসএসএই/ওয়ে পার্বতীপুর শেখ আল আমিন জানান, তিন যখন আমনুরাতে এসএসএই(ওয়ে) পদে কর্মরত ছিলেন তখন কার এইএন/রাজশাহী এবং ডিইএন-২/পাকশী স্যারদের অনুমতি নিয়ে নাচোল প্লাটফর্ম এর পাশে রেললাইনের ব্যবহৃত মালামাল রাখার জন্য একটি অস্থায়ী গোডাউন তৈরী করা হয়েছিলো।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় , দুই বছর আগে রেলওয়ের গোডাউন এর যায়গাটা অসাধু কিছু কর্মকর্তা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গোডাউনটি লিজ দিয়ে দেয়। রেলওয়ের গোডাউনটি কাউকে কিছু না বলেই চার ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে ভেঙ্গে ফেলে ও মালামাল লুট করার চেষ্টা করে। পরে জি আর পি এবং আর এন বির হস্তক্ষেপে মালামাল লুটপাটের চেষ্টা ব্যহত হয়। কিন্তু মালামালগুলি এখনো অরক্ষিত অবস্থায় আছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলো শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান ও মারুফ, দেওপাড়া গ্রামের খাইরুল এবং মোমিন পাড়ার বাইরুল।
রেল গোডাউনের পুরাতন মালামাল লুটের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল মান্নান জানান, তিনি নিয়ম মাফিক লীজ নিয়েই ওই স্থান আবাদের জন্য পুরাতন ও অকেজো মালামাল ফেলে দিয়ে তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে দখলে রেখেছেন।
লীজের বিষয়ে আমনুরার এসএসএই/ওয়ে (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম বাকিয়াতুল্লাহ্ জানান, লীজ গ্রহিতা টিন খুলে ফেলেছে এবং স্লিপারগুলো সরিয়ে রাখছে বলে শুনেছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কারো সাথে যোগাযোগ করেনি। গোডাউনের মালামালের চার্জ বুঝে নেননি, তাই কি পরিমান মালামাল সরিয়েছে তা বলতে পারেননি। তবে বিষয়টি ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
আমনুরা রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফোর্স ও আর এন বিওকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল মান্নানকে চার্জ করলে আঃ মান্নান জানায় তারা লিজ নিয়েছে। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ভেঙ্গে তারা অপরাধ করেছে।
১০নং কাচারি বাংলাদেশ রেলওয়ে আমনুরার সার্ভেয়ার(আমিন) শেখ ফরিদ উদ্দীন গত ২১ এপ্রিল/’২৬ তারিখে স্বাক্ষরিত লীজের চেকে "জিএম পশ্চিমাঞ্চল মহাদয়ের নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো" নোট লিখে দেন। পূর্বে থেকে রেল গোডাউনের যায়গা লীজের বিষয়ে
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাপরিচালক ফরিদ আহম্মেদ জানান, ওইস্থানে রেলের গোডাউন ছিল এটি তাঁর জানা ছিলনা, তাই লীজ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ পেলে লীজ বাতিল করা হবে।
এদিকে বিগত ৮ বছরের রেলগোডাউনের ৪২ শতক যায়গা লীজ দেওয়া ও লীজ গ্রহিতা প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল আত্মসাতের পরও রেল কর্তৃপক্ষের নীরবতায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন